ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন যে গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-এর সাথে একটি নতুন কাঠামো চুক্তি হয়েছে, যার অধীনে ন্যাটো সদস্যদেরকে আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে রুট এই মন্তব্য করেন, যখন ইউরোপীয় মিত্ররা ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ন্যাটো সদস্য গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ট্রাম্পের পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া জানায়।
এই চুক্তির লক্ষ্য হল সামরিক মহড়া এবং সম্পদ অনুসন্ধান সহ আর্কটিকে রাশিয়ান ও চীনা কার্যকলাপ সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ মোকাবিলা করা। রুট এই অঞ্চলে নজরদারি বৃদ্ধি, উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো এবং সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। রুট বলেন, "আর্কটিক কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।" "এই কাঠামো নিশ্চিত করে যে ন্যাটো এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগগুলি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।"
আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করার এই প্রচেষ্টা এমন সময়ে এসেছে যখন বরফ গলতে থাকার কারণে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ এবং মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের রাস্তা খুলে যাচ্ছে, যা ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্র করছে। এই চুক্তিতে সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে যেখানে ন্যাটো সদস্যদের উন্নত রাডার সিস্টেম, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং আইসব্রেকার সক্ষমতা সহ বিনিয়োগ করতে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিনিয়োগগুলির উদ্দেশ্য হল আর্কটিকে পরিস্থিতির সচেতনতা এবং প্রতিক্রিয়ার সময় উন্নত করা।
গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণে ট্রাম্পের প্রাথমিক আগ্রহ বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং আর্কটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। যদিও ট্রাম্প পরবর্তীতে বলেছেন যে তিনি দ্বীপটি অধিগ্রহণের জন্য শক্তি ব্যবহার করবেন না, তবে এই ঘটনাটি এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেছে। নতুন কাঠামো চুক্তিটি আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য একটি সহযোগী প্রচেষ্টায় এই আগ্রহকে কাজে লাগাতে চায়।
চুক্তির বাস্তবায়ন পরবর্তী ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে আলোচিত হবে, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলি তাদের নির্দিষ্ট অবদানের রূপরেখা দেবে। আর্কটিক নিরাপত্তার উপর ক্রমবর্ধমান মনোযোগের কারণে ন্যাটো দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তিটি কানাডা এবং রাশিয়ার মতো ন্যাটোর বাইরের আর্কটিক দেশগুলির সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানায়, যাতে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং সংঘাত প্রতিরোধ করা যায়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment