মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক চার্চের তিনজন কার্ডিনাল ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন, এই মর্মে যে এর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে হুমকির মুখে ফেলছে এবং এর ফলে ব্যাপক দুর্ভোগ হতে পারে। শিকাগোর কার্ডিনাল ব্লেজ কুপিচ, ওয়াশিংটন ডিসি-র রবার্ট ম্যাকএলরয় এবং নিউয়ার্কের জোসেফ টবিন-এর একটি যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের চেষ্টা, ভেনেজুয়েলার সামরিক পদক্ষেপ এবং মানবিক সাহায্য হ্রাস করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পোপ লিও XIV-এর নির্বাচনের পর ইতালির রোমের পন্টিফিকাল নর্থ আমেরিকান কলেজে ৯ মে, ২০২৫ তারিখে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
কার্ডিনালরা যুক্তি দিয়েছেন যে এই নীতিগুলি মানুষের মর্যাদা ক্ষুন্ন করে এবং বিশ্ব শান্তিকে বিপন্ন করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "সারা বিশ্বে অন্যায়ের মোকাবিলা করা, জীবন ও মানুষের মর্যাদার অধিকার রক্ষা করা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে আমাদের দেশের নৈতিক ভূমিকা আজ প্রশ্নের মুখে।" কার্ডিনালরা বিশেষভাবে যে বিষয়গুলির উল্লেখ করেছেন, তা আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
গ্রিনল্যান্ড, যা ডেনমার্ক রাজ্যের একটি স্ব-শাসিত অঞ্চল, সেটিকে অধিগ্রহণের চেষ্টা অনেককেই একটি নব্য-ঔপনিবেশিক প্রচেষ্টা হিসাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এটি গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে উপেক্ষা করে। শোনা যাচ্ছে, মার্কিন সরকার হয় কিনে নিয়ে, নাহয় অন্য কোনো উপায়ে অঞ্চলটি অধিগ্রহণ করতে চাইছে। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্ক উভয়েই এর বিরোধিতা করেছে এবং জানিয়েছে যে দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে লড়াই করা ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি হল, এই ধরনের পদক্ষেপ সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে। কার্ডিনালদের বিবৃতিতে তাঁরা ঠিক কোন সামরিক পদক্ষেপের কথা বলছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
এছাড়াও, কয়েক দশক ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ছিল যে মানবিক সাহায্য, তাতে कटौती করার ফলে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য হ্রাস এবং মানবিক সংকট মোকাবেলায় দেশটির প্রতিশ্রুতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই कटौती অসংখ্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং কর্মসূচিকে প্রভাবিত করেছে, যার ফলে সারা বিশ্বের দুর্বল জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কার্ডিনালদের বিবৃতিতে তাঁরা কোন মানবিক সাহায্য ছাঁটাইয়ের কথা বলছেন, তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি।
ক্যাথলিক চার্চ একটি বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠান এবং এর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, এই চার্চ শান্তি, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কার্ডিনালদের এই বিবৃতি দুর্বল জনগোষ্ঠীর কল্যাণের জন্য চার্চের উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে এবং একটি আরও ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ দেয়। ভ্যাটিকান এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনও এখনও কার্ডিনালদের বিবৃতির প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভবিষ্যতে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির উপর এই সমালোচনার প্রভাব কেমন হবে, তা দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment