ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো "গ্রিনল্যান্ড এবং প্রকৃতপক্ষে সমগ্র আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি ভবিষ্যৎ চুক্তির কাঠামো তৈরি করেছে।" সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সময় এই ঘোষণা করা হয়। ঘোষণায় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হুমকি স্বরূপ আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের কথাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ট্রাম্প জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার কারণেই তিনি শুল্ক আরোপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, "গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে গোল্ডেন ডোম নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা চলছে" এবং পরবর্তীতে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। "কাঠামো"-র সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে "গোল্ডেন ডোম"-এর উল্লেখ গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে থাকা সম্পদ অধিকার বা কৌশলগত সম্পদের উপর মনোযোগের ইঙ্গিত দেয়।
প্রাথমিক শুল্ক আরোপের হুমকির কারণ ছিল ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাবদ অর্থ প্রদানে দীর্ঘদিনের বিরোধ। ২০১৯ সালে গ্রিনল্যান্ড কেনার ব্যাপারে ট্রাম্পের পূর্বের আগ্রহ ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলেছিল, যারা এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি পরিচালনা করে। এই নতুন ঘটনাটি আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের প্রতি আরও কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
আর্কটিক অঞ্চল তার সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলতে থাকায় নতুন জাহাজ চলাচলের পথ এবং পূর্বে দুর্গম সম্পদগুলোতে প্রবেশাধিকার বাড়ছে, যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে। "কাঠামো" চুক্তিটি সম্ভবত সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান করতে পারে।
মহাসচিব রুট এখনও কোনো বিবৃতি দেননি। আলোচনা অব্যাহত থাকায় চুক্তি সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড এবং বৃহত্তর আর্কটিক অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য এই সম্ভাব্য চুক্তির প্রভাব এখনও দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment