ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ভাষণ দেওয়ার সময় বলেন, "এখন নতুন সাম্রাজ্যবাদ বা নতুন উপনিবেশবাদের সময় নয়।" বিশ্ব নেতাদের বার্ষিক সম্মেলনে ম্যাক্রোঁর এই মন্তব্য ব্যাপকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বৈদেশিক নীতি বিষয়ক পদক্ষেপ এবং ঘোষণার সরাসরি সমালোচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বুধবার ফোরামে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প সরাসরি ম্যাক্রোঁর মন্তব্যের জবাব দেননি, তবে জ্বালানি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি ম্যাক্রোঁর সানগ্লাস নিয়েও একটি মন্তব্য করেন।
ম্যাক্রোঁর এই বিবৃতি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের পর এসেছে, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক করা এবং পানামা খাল নিয়ে বারবার হুমকি দেওয়া অন্যতম। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়েছে, যারা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ত উপনিবেশবাদের ধারণায় নির্ভরশীল অঞ্চলগুলোর উপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বজায় রাখা জড়িত। সমালোচকদের যুক্তি হলো, ইউরোপীয় দেশগুলোর ঐতিহাসিক ভূমিকা স্বীকার না করে উপনিবেশবাদের выбоচনমূলক নিন্দা বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব ঘটায়। কিছু পর্যবেক্ষক আফ্রিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর দ্বারা চালিত চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে নব্য-উপনিবেশবাদের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য একত্রিত করে। এই বছরের ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ-এর মতো বিষয়গুলোর উপর আলোকপাত করা হয়েছে। ম্যাক্রোঁ এবং ট্রাম্পের মধ্যে এই আলোচনা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিশ্ব ক্ষমতার গতিশীলতার উপর চলমান উত্তেজনা এবং ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। এই আলোচনার তাৎপর্য এখনো দেখার বিষয়, কারণ উভয় নেতাই জটিল ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment