গ্রীনল্যান্ড নিয়ে বিতর্কের জেরে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত এই সপ্তাহের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আলোচনায় উত্তেজনা দেখা যায়, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের এই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দাবি জানান। এই দাবির ফলে একটি কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয় যা আটলান্টিক পারের সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তোলে।
ট্রাম্পের প্রশাসন ডেনমার্কসহ আটটি ইউরোপীয় দেশ থেকে আসা পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়, যদি না গ্রীনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়। তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান ইউরোপীয় নেতারা, যারা এটিকে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী হিসেবে দেখেন।
ড্যানমার্কের রাজ্য, যার মধ্যে গ্রীনল্যান্ড এবং ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ অন্তর্ভুক্ত, ১৮১৪ সাল থেকে গ্রীনল্যান্ডের উপর সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেছে। গ্রীনল্যান্ড, রাজ্যের অংশ হলেও, এর নিজস্ব সংসদ এবং সরকার রয়েছে যা বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলির জন্য দায়ী এবং এর ফলে এটি উচ্চ মাত্রার স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে। দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি উত্তর মেরুতে অবস্থিত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অঞ্চলটি আরও সহজলভ্য হওয়ায় ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে বাড়ছে।
এই সংকটটি এমন এক পটভূমিতে উন্মোচিত হয়েছে যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতি নিয়ে ইউরোপে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি বিরাজ করছে। বাণিজ্য বিরোধ, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার এবং অনুভূত আমেরিকান একতরফাবাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ঐতিহ্যবাহী ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলেছে।
যদিও শুল্ক আরোপের তাৎক্ষণিক হুমকি এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ আপাতদৃষ্টিতে কমে গেছে, আটলান্টিক পারের সম্পর্কের উপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও অনিশ্চিত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে গ্রীনল্যান্ড সংকট যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে গভীর বিভেদ এবং আস্থার অভাবকে উন্মোচিত করেছে, যা তাদের জোটের ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দিতে পারে। অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলি মোকাবিলা করতে এবং ভবিষ্যতের উত্তেজনা প্রতিরোধ করতে আরও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment