গ্রীনল্যান্ড কেনার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আগ্রহ, ব্যাপক বিস্ময় ও সমালোচনার জন্ম দিলেও, সাংবাদিক টনি শোয়ার্টজের সাথে যৌথভাবে লেখা তাঁর ১৯৮৭ সালের বই "আর্ট অফ দ্য ডিল"-এ বর্ণিত আলোচনার দীর্ঘদিনের কৌশলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেটে ট্রাম্পের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা এই বইটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে তাঁর প্রেসিডেন্সির সময় একটি ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে কাজ করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, জানুয়ারিতে এক সপ্তাহে গ্রীনল্যান্ড পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের কৌশল তাঁর বইয়ের কয়েকটি মূল নীতির প্রতিফলন। এই নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ লক্ষ্য রাখা, আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নিজের সেরা বিকল্প (Best Alternative To a Negotiated Agreement - BATNA) বোঝা, প্রভাব ব্যবহার করা, অন্যদের মধ্যপন্থা খুঁজে নিতে দেওয়া এবং কল্পনার আশ্রয় নেওয়া। ডেনমার্ক রাজ্যের অধীনে একটি স্ব-শাসিত অঞ্চল গ্রীনল্যান্ড কেনার প্রাথমিক প্রস্তাবটি "উচ্চ লক্ষ্য রাখা" কৌশলের উদাহরণ।
গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের ধারণাটি নতুন নয়। ১৯৪৬ সালে, ট্রুম্যান প্রশাসন দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব উপলব্ধি করে ডেনমার্ককে ১০০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব করেছিল, বিশেষ করে ঠান্ডা যুদ্ধের সময়। গ্রীনল্যান্ডের অবস্থান এটিকে ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আর্কটিকে সামরিক অভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছে।
ডেনমার্ক দ্রুত ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এই প্রস্তাবকে "অ absurd" বলে অভিহিত করেন। এই প্রত্যাখ্যানের ফলে ডেনমার্কে ট্রাম্পের পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল হয়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই সফর বাতিলের ঘটনায় ডেনিশ রাজনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকরা সমালোচনা করেন, যারা এটিকে দীর্ঘদিনের মিত্রের প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে দেখেছেন।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিলতা এবং আলোচনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আলোকপাত করে। ট্রাম্পের কৌশল আমেরিকান ব্যবসার প্রেক্ষাপটে পরিচিত হলেও, বিশ্ব মঞ্চে এটিকে ভিন্নভাবে দেখা যেতে পারে, যেখানে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক সম্পর্ক এবং বৃহত্তর আর্কটিক নীতির উপর কেমন হবে, তা দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment