ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা করেছেন যে দাভোসে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিদেশীয় আলোচনা সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই ঘোষণাটি ইউক্রেনে চলমান সংঘাত নিরসনের জন্য জোরদার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে এসেছে, যা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করেছে এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছেন, অন্যদিকে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারকে নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য মস্কো সফর করেছেন। উইটকফ একটি সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে দাভোস ত্যাগ করার আগে বলেন, "আমি মনে করি আমরা এটিকে একটি বিষয়ে নামিয়ে এনেছি এবং আমরা সেই বিষয়টির পুনরাবৃত্তি নিয়ে আলোচনা করেছি, এবং এর মানে হল এটি সমাধানযোগ্য।"
উইটকফ অবশিষ্ট বাধা নির্দিষ্ট না করলেও জেলেনস্কি পরে স্পষ্ট করে বলেন যে পূর্ব ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ স্থিতাবস্থা এখনও বিরোধের মূল বিষয়। তিনি রাশিয়ার আপস করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, "শুধু ইউক্রেন নয়, রাশিয়ারও আপস করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে... এটি সম্পূর্ণরূপে ভূমি নিয়ে। এটি এমন একটি বিষয় যা এখনও সমাধান হয়নি।"
ইউক্রেনের সংঘাত, জটিল ঐতিহাসিক এবং ভূ-রাজনৈতিক কারণগুলোর গভীরে প্রোথিত, ২০১৪ সাল থেকে চলছে, রাশিয়ার ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ এবং পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের উত্থানের পর থেকে। এই পরিস্থিতি একটি ছায়া-যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলে উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনে রাশিয়ার কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, একই সাথে ইউক্রেনীয় সরকারকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিকল্পিত আলোচনাটি সংঘাতের একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য নতুন করে প্রচেষ্টা, যার ফলে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটেছে এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আর ক্ষমতায় না থাকা সত্ত্বেও তাদের এই আলোচনায় অংশগ্রহণ সংকট নিরসনে অব্যাহত আন্তর্জাতিক আগ্রহের ওপর আলোকপাত করে। এই আলোচনার সাফল্য নির্ভর করছে সমস্ত পক্ষের গঠনমূলক সংলাপে জড়িত হওয়ার এবং আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ ও পূর্ব ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ স্থিতাবস্থা নিয়ে বিতর্কিত বিষয়ে একটি সাধারণ ভিত্তি খুঁজে বের করার ইচ্ছার ওপর। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, এমন একটি সাফল্যের আশায় যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment