আলমারির মধ্যে টর্চের আলো ফেলতেই ধুলোর কণাগুলো নাচতে শুরু করে। জট পাকানো তার, ভুলে যাওয়া চার্জার, আর বহু পুরোনো হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতির অস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি – এটা যেন একটা প্রযুক্তির গোরস্থান, বাতিল হয়ে যাওয়া জিনিসের স্মৃতিস্তম্ভ। আমাদের সবারই এমন একটা ড্রয়ার আছে, যেটা প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাওয়া গ্যাজেটে ভর্তি। কিন্তু ডিজিটাল আবর্জনার মধ্যে জীবন কাটানোর আগে, একবার ভাবুন: অতীতের এই ধ্বংসাবশেষগুলোর হয়তো এখনও কোনো মূল্য আছে, সেটা স্মৃতিবিজড়িত হোক বা ব্যবহারিক।
স্মার্টফোনের উত্থান ছিল এক প্রযুক্তিগত সুনামি, যা তার পথে আসা ডিভাইসগুলোর পুরো শ্রেণীকেই নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। একসময় পোর্টেবল বিনোদনের রাজা ছিল ডিজিটাল মিউজিক প্লেয়ার, আর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ছিল কমপ্যাক্ট ক্যামেরা। এখন সেগুলো ড্রয়ারে বন্দী, কারণ তাদের জায়গা নিয়েছে আমাদের পকেটের কম্পিউটারের সর্ব-ইন-ওয়ান সুবিধা। কিন্তু তাদের গল্প এখানেই শেষ নয়।
একটা সাধারণ দৃশ্য হলো ক্লাসিক আইপড। অনেক ব্যবহারকারী তাদের পুরো সিডি কালেকশন এই ডিভাইসগুলোতে কপি করেছিলেন, তৈরি করেছিলেন নিজস্ব লাইব্রেরি, যা এখন পুরোনো হার্ডওয়্যারের মধ্যে আটকা পরে আছে। ভালো খবর হলো, সেই গানগুলো চিরতরে হারিয়ে যায়নি। বিজ্ঞাপনে যেমন বলা হয়, "যদি আপনার কম্পিউটার বহু বছর আগে নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকে এবং আপনার সিডি থেকে কপি করা গানের কালেকশনও তার সাথে চলে গিয়ে থাকে, তাই যদি আপনি আপনার পুরোনো আইপডটি রেখে দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই গানগুলো পুনরুদ্ধারের এটাই সময়।" প্রথম ধাপ হলো ডিভাইসটিকে কম্পিউটারের সাথে সংযোগ করা। এর জন্য হয়তো পুরোনো দিনের স্মৃতি হাতড়ে সঠিক কেবলটি খুঁজে বের করতে হবে। প্রথম দিকের আইপডগুলোতে ফায়ারওয়্যার ব্যবহার করা হতো, যা এখন একটি অপ্রচলিত সংযোগ স্ট্যান্ডার্ড, যেখানে পরবর্তী মডেলগুলোতে বিভিন্ন ইউএসবি ফরম্যাট ব্যবহার করা হয়েছে। সঠিক কেবল খুঁজে বের করাটা জরুরি, এবং বেস্ট বাই বা অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে প্রতিস্থাপন খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।
এমনকি যদি ডিভাইসটি আর কাজ না করে, তবুও এর ডেটা পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। ডেটা পুনরুদ্ধার পরিষেবাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোনো স্টোরেজ মিডিয়া থেকে তথ্য বের করতে বিশেষজ্ঞ। এটি একটি ব্যয়বহুল বিকল্প হতে পারে, তবে অপূরণীয় ছবি বা গানের সংগ্রহের জন্য এটি মূল্যবান হতে পারে।
ডেটা পুনরুদ্ধারের বাইরে, এই পুরোনো গ্যাজেটগুলো পুনরায় ব্যবহার বা দান করার কথা বিবেচনা করুন। ড্রয়ারে ধুলো জমা সেই পুরোনো পকেট ক্যামেরা একজন উদীয়মান তরুণ ফটোগ্রাফারের জন্য মূল্যবান সরঞ্জাম হতে পারে। অনেক স্কুল এবং কমিউনিটি সংস্থা ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স দান হিসেবে গ্রহণ করে, যা হয়তো অন্যথায় যাদের কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য প্রযুক্তির অ্যাক্সেস সরবরাহ করে। বিজ্ঞাপনে যেমন বলা হয়েছে, "যদি আপনি এটি ব্যবহার না করেন, তাহলে একজন উদীয়মান তরুণ ফটোগ্রাফারের কাছে এটি হস্তান্তর করা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক।"
পুরোনো প্রযুক্তির জগতে পথ চলা কঠিন হতে পারে, তবে সাহায্য করার জন্য অনেক উৎস আছে। অ্যাপল, মাইক্রোসফ্ট, স্যামসাং এবং সনির মতো প্রধান নির্মাতারা প্রায়শই পুরোনো পণ্যগুলোর জন্য তাদের ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারী ম্যানুয়াল সংরক্ষণ করে। ম্যানুয়ালস অনলাইন এবং ম্যানুয়ালসলিবের মতো ওয়েবসাইটগুলোতে অসংখ্য ম্যানুয়ালের ডিজিটাইজড সংস্করণ পাওয়া যায়, যা পুরোনো ডিভাইসগুলোর সমস্যা সমাধান এবং সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়।
পুরোনো গ্যাজেটে ভর্তি ড্রয়ারটি কেবল বাতিল প্রযুক্তির সংগ্রহ নয়; এটি স্মৃতি, সৃজনশীলতা এবং সম্ভাবনার ভাণ্ডার। ডেটা পুনরুদ্ধার, পুনরায় ব্যবহার এবং দানের বিকল্পগুলো খুঁজে বের করার জন্য সময় দিলে, আমরা এই ভুলে যাওয়া ডিভাইসগুলোকে নতুন জীবন দিতে পারি এবং সেগুলোকে কেবল ই-বর্জ্যে পরিণত হওয়া থেকে বাঁচাতে পারি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment