মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে দাভোস অর্থনৈতিক ফোরামে একটি নতুন বোর্ড অফ পিস উদ্বোধন করেছেন, যা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় একটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সংকেত দিচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, এই উদ্যোগটি মূলত গাজায় সংঘাত নিরসনে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টার সময় ধারণা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল, এখন এটির লক্ষ্য আরও বিস্তৃত, আরও বিশ্বব্যাপী পরিসর।
ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষী ঘোষণা, "কয়েক দশকের কষ্ট লাঘব করা, প্রজন্মের পর প্রজন্মের ঘৃণা ও রক্তপাত বন্ধ করা এবং একটি সুন্দর, চিরস্থায়ী ও গৌরবময় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা"-এর প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আশাবাদ এবং সংশয় উভয়টির সাথেই মিলিত হয়েছে। কেউ কেউ বোর্ড অফ পিসকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে নতুন আকার দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের অভিপ্রায়ের আরও প্রমাণ হিসাবে দেখেন, যা সম্ভবত জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাবে।
জাতিসংঘের বিদ্যমান শান্তি উদ্যোগগুলোকে নকল বা দুর্বল করার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘ, তার সংগ্রাম ও সমালোচনা সত্ত্বেও, ঐতিহাসিকভাবে সংঘাত নিরসনে, শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন এবং বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা প্রদানে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি সমান্তরাল কাঠামো তৈরি করা বিভ্রান্তি ও প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার সামগ্রিক কার্যকারিতা দুর্বল করে দিতে পারে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, "আমরা কাউকে আমাদের সাথে খেলতে দেব না।" বিপরীতে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, ট্রাম্পের একজন শক্তিশালী সমর্থক, উৎসাহের সাথে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, "যদি ট্রাম্প থাকে, তবে শান্তি।" মতামতের এই ভিন্নতা নতুন উদ্যোগকে ঘিরে থাকা জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তুলে ধরে।
বোর্ড অফ পিস স্থায়ীভাবে পরিচালিত হবে। বোর্ডের ম্যান্ডেট, কাঠামো এবং তহবিল সম্পর্কিত নির্দিষ্ট বিবরণ এখনও অস্পষ্ট, যা এর দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা এবং প্রভাব সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। আগামী মাসগুলোতে এটি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে যে বোর্ডটি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে কীভাবে যোগাযোগ করে এবং এটি বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনে কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারে কিনা।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment