আফগানিস্তানে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে নিন্দা কুড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ন্যাটো বাহিনী সংঘাতের সময় সম্মুখসারিতে ছিল না এবং জোটের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি এমনও ইঙ্গিত দেন যে মিত্র দেশগুলো অনুরোধ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য নাও করতে পারে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জেরে যুক্তরাজ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই বক্তব্যে আফগানিস্তানে ন্যাটো মিত্রদের অবদানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার সৈন্য আমেরিকান সেনাদের পাশাপাশি সেবা দিয়েছে এবং আত্মত্যাগ করেছে। যদিও ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের নির্দিষ্ট নাম সূত্র materials-এ দেওয়া হয়নি, তবে এই নিন্দাকে ব্যাপক বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) একটি সামরিক জোট, যা ১৯৪৯ সালে একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে এর সদস্য রাষ্ট্রগুলি কোনও বহিরাগত পক্ষের আক্রমণ মোকাবেলায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষায় সম্মত হয়। এই জোট কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হয়ে আছে, তবে ট্রাম্প বারবার এর প্রাসঙ্গিকতা এবং ন্যায্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, বিশেষত সদস্য রাষ্ট্রগুলির প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে।
আফগানিস্তানে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার পরে শুরু হওয়া যুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনী (ISAF) এবং পরবর্তীকালে রিসোলিউট সাপোর্ট মিশনের ব্যানারে ন্যাটো মিত্রদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। এই মিশনগুলোর লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা প্রদান, আফগান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আফগান সরকারকে সহায়তা করা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে সৃষ্ট উদ্বেগ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। জোটের ভবিষ্যতে এই মতবিরোধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনো দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment