শুক্রবার ভিয়েতনামের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক পদে তো লাম পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন, যা দেশটির নেতৃত্ব কাঠামো এবং অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। হ্যানয়ে জাতীয় পার্টি কংগ্রেসের সমাপ্তিতে ১৮০ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এই পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লামের এই পদোন্নতি তাকে কয়েক দশকের মধ্যে ভিয়েতনামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত করতে পারে।
যদিও রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে জল্পনা বাড়ছে যে লাম (৬৮) এই পদে অধিষ্ঠিত হবেন, যা ভিয়েতনামের সম্মিলিত নেতৃত্বের ঐতিহ্যকে ভেঙে দেবে। সিঙ্গাপুরের ISEAS-Yusof Ishak Institute-এর একজন ফেলো লে হং হিপ বলেছেন, নবনির্বাচিত ১৯ সদস্যের পলিটব্যুরোর গঠন (যা দলের শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা) "দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত দেয়" লাম রাষ্ট্রপতি পদ লাভের মাধ্যমে তার ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত করবেন।
লাম তার পুনর্নিয়োগের সময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দেশটি ১০% প্রবৃদ্ধির একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলে জানা গেছে। অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের উপর এই মনোযোগ এমন সময়ে এসেছে যখন ভিয়েতনাম বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে ক্রমাগতভাবে একীভূত হচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিতে অংশ নিচ্ছে।
ভিয়েতনাম একটি অনন্য রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়, যেখানে কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক যথেষ্ট প্রভাব রাখেন, প্রায়শই কার্যত নেতা হিসেবে কাজ করেন। লামের অধীনে ক্ষমতার সম্ভাব্য একত্রীকরণ অন্যান্য একদলীয় রাষ্ট্রে দেখা যাওয়া প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে, যেখানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি আনতে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সুগম করতে পারে এবং সম্ভবত আরও দৃঢ় নীতি বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চলা জাতীয় পার্টি কংগ্রেস ভিয়েতনামের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। পলিটব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় কমিটির গঠন দলটির অগ্রাধিকার এবং সেই ব্যক্তিদের সম্পর্কে ধারণা দেয় যারা ভিয়েতনামের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখবেন। লামের নেতৃত্ব ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র নীতি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বিষয়াবলীতে এর ভূমিকাকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা দেখার জন্য আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে নজর রাখবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment