নতুন গবেষণা থেকে জানা যায় যে বরফ যুগে অস্ট্রেলিয়ায় বিচরণ করা ২৫০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজনের দৈত্যাকার ক্যাঙ্গারুগুলোর লাফানোর ক্ষমতা ছিল, অন্তত স্বল্প দূরত্বে হলেও, যা তাদের সীমিত গতিশীলতা সম্পর্কে আগের অনুমানকে চ্যালেঞ্জ করে। সাইন্টিফিক রিপোর্টস-এ প্রকাশিত গবেষণাটি বলছে যে স্টেনুরিন নামে পরিচিত এই বিলুপ্ত মার্সুপিয়ালদের পায়ের হাড় এবং টেন্ডনগুলো তাদের বিশাল আকার সত্ত্বেও লাফানোর চাপ সহ্য করতে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।
এই আবিষ্কারটি আগের গবেষণার বিরোধী, যেখানে বলা হয়েছিল ১৬০ কিলোগ্রামের বেশি ওজনের ক্যাঙ্গারুগুলোর পক্ষে লাফানোর কারণে তাদের গোড়ালিতে যে প্রভাব পড়ত, তা সহ্য করা খুব কঠিন হত। নতুন গবেষণাটি স্টেনুরিনের পায়ের কাঠামোর বায়োমেকানিক্স বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে তারা হয়তো সবসময় লাফাত না, তবে সেই ক্ষমতা সম্ভবত তাদের ছিল। স্টেনুরিনের লাফানোর পুনর্গঠনকারী শিল্পী মেগান জোন্স উল্লেখ করেছেন যে এই প্রাণীগুলোর ক্ষমতা বুঝতে তাদের গতিশীল অবস্থায় কল্পনা করাটা গুরুত্বপূর্ণ।
এমনকি মাঝে মাঝে লাফানোর ক্ষমতাও এই দৈত্যাকার ক্যাঙ্গারুগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত, বিশেষ করে শিকারীদের হাত থেকে বাঁচতে। বরফ যুগের পরিবেশ অসংখ্য বিপদ নিয়ে আসত, এবং দ্রুত গতিতে পালানো জীবন বাঁচানো এবং শিকার হওয়ার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে পারত।
গবেষণাটি বায়োমেকানিক্যাল বিশ্লেষণ এবং কম্পিউটেশনাল মডেলিংয়ের অগ্রগতির মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রজাতির ক্রমবিকাশমান ধারণাগুলোকে তুলে ধরে। এই কৌশলগুলো বিজ্ঞানীদের জীবাশ্ম অবশেষের উপর ভিত্তি করে প্রাণীদের শারীরিক ক্ষমতা অনুমান করতে সাহায্য করে, যা তাদের আচরণ এবং পরিবেশগত ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
স্টেনুরিনদের নির্দিষ্ট চালচলন এবং গতিবিধি নিয়ে আরও গবেষণা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, সম্ভবত বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের চলন মডেল করার জন্য এআই-চালিত সিমুলেশন ব্যবহার করা হবে। এই সিমুলেশনগুলো লাফানো বনাম অন্যান্য ধরণের চলাচলের সাথে সম্পর্কিত শক্তির ব্যবহার নির্ধারণ করতে সাহায্য করতে পারে, যা এই দৈত্যাকার ক্যাঙ্গারুগুলো কীভাবে তাদের পরিবেশে চলাচল করত তার একটি সম্পূর্ণ চিত্র সরবরাহ করবে। চলমান এই গবেষণাটি এই আকর্ষণীয় প্রাণী এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রাগৈতিহাসিক অতীতে তাদের স্থান সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াকে আরও পরিমার্জিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment