সিবিএস নিউজের প্রধান সম্পাদক বারি ওয়েইসের কর্মী ছাঁটাই ও ১৮ জন বেতনভুক্ত ধারাভাষ্যকার নিয়োগের ঘোষণার মধ্যে দিয়ে সিবিএস নিউজে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে, এমনটাই জানিয়েছে এনপিআর নিউজ। মঙ্গলবার সকালে সমস্ত কর্মীদের নিয়ে একটি সভা হওয়ার কথা, যেখানে এই ঘোষণা করা হবে। বারি ওয়েইস নেটওয়ার্কের সংবাদ সম্প্রচারের পদ্ধতি ঢেলে সাজানোর নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি টালমাটাল ছিল।
এনপিআর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, "৬০ মিনিটস" এবং "সিবিএস ইভনিং নিউজ"-এর মতো প্রধান অনুষ্ঠানগুলোতে ওয়েইসের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলি নিউজ রুমের অভ্যন্তরে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে এবং নেটওয়ার্কের বাইরের সাংবাদিকদের কাছ থেকেও সমালোচিত হয়েছে। কর্মী ছাঁটাইয়ের নির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
সিবিএস নিউজের এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ নিয়ে বৃহত্তর আলোচনা চলছে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দাভোসে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক নেতারা বিশ্বের নানা সংকট সমাধানের জন্য উন্নয়নের নতুন উৎস উন্মোচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কোনও "ম্যাজিক বুলেট" নয় এবং এটি বিশ্ব দারিদ্র্য দূর করতে পারবে না, কারণ ঐতিহাসিকভাবে বিপুল সম্পদ মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে চলে গেছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনিশ্চিত এবং কম বেতনের চাকরিতে আটকা পড়েছে, এমনটাই জানিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি ও বিবৃতিগুলো ক্রমাগত সমালোচিত হচ্ছে। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প ক্রমবর্ধমান ফেডারেল ঘাটতি ও ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "উন্নয়নই হল উচ্চ ঋণ থেকে নিম্ন ঋণে যাওয়ার উপায়। আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে ঋণ থেকে মুক্তি পাব এবং আমি মনে করি আমরা ঋণ পরিশোধ করতে পারব।" তবে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) এবং বেশিরভাগ বেসরকারি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতিতে ঘাটতি আরও বাড়বে এবং ট্রাম্পের "বিগ বিউটিফুল বিল" ঘাটতিতে ৫.৫ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারে, যা সম্ভবত তার পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিতে পারে, এমনটাই জানিয়েছে ফোর্বস।
দাভোসে সোমালিদের সম্পর্কে করা মন্তব্যের জন্যও ট্রাম্প সমালোচিত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, "আমরা সোমালীয় ডাকাতদের দ্বারা চুরি হওয়া ১৯ বিলিয়নেরও বেশি জালিয়াতি বন্ধ করছি... এরা স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ, তারা কীভাবে মিনেসোটায় গিয়ে এত টাকা চুরি করে?" টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মন্তব্যগুলি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে এবং সোমালি প্রবাসীদের মধ্যে আলোচিত হয়েছে।
অন্যদিকে অভিবাসন সংক্রান্ত অন্য একটি খবরে, ভক্স আইসিই-কে নিয়ন্ত্রণে রাখার কয়েকটি উপায় তুলে ধরেছে, যার মধ্যে কংগ্রেস, আদালত এবং রাজ্য সরকারগুলোর অভিবাসন এজেন্টদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করার পদক্ষেপগুলো অন্তর্ভুক্ত। মিনিয়াপলিসে সাম্প্রতিক ঘটনার পর এই খবরটি সামনে আসে, যেখানে ফেডারেল এজেন্টরা অ্যালেক্স প্রেটিকে গুলি করে হত্যা করে, যার ফলে বিক্ষোভ শুরু হয়, এমনটাই জানিয়েছে ভক্স।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment