মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে "চালাবে", যা দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ভবিষ্যৎ এবং সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া এই বিবৃতিটি ভেনেজুয়েলার একটি গোপন আস্তানায় ডেল্টা ফোর্সের অভিযানের পরে এসেছে, যার ফলস্বরূপ নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন।
এই অভিযান এবং পরবর্তী ঘোষণা ভেনেজুয়েলার প্রতি মার্কিন নীতির একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, যা কয়েক মাস ধরে ক্রমবর্ধমান মার্কিন চাপের মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে, মাদক বোঝাই নৌকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করছে, এই পদক্ষেপগুলো আগে একটি বৃহত্তর অভিযানের সম্ভাব্য অগ্রদূত হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল যার লক্ষ্য ছিল শাসন পরিবর্তন।
"ভেনেজুয়েলাকে চালানো" এই বাক্যটির ব্যাখ্যা বিভিন্ন হতে পারে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন যে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সম্ভাবনা থাকতে পারে, যেমন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার দ্বারা সরাসরি প্রশাসন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে আরও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র এখনও স্পষ্ট করেনি যে তারা কীভাবে দেশটি "চালাতে" চায়।
ভেনেজুয়েলা বহু বছর ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে, যা চরম মুদ্রাস্ফীতি, মৌলিক পণ্যের অভাব এবং ব্যাপক অভিবাসন দ্বারা চিহ্নিত। মাদুরোর সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ থেকে আন্তর্জাতিক নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে মাদুরোর শাসন অবৈধ, এবং বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে দেশের legítimo রাষ্ট্রপতি হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা সংকট সম্পর্কে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মতামত দিচ্ছে। লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপের কিছু দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সমর্থন করেছে, অন্যরা মার্কিন অবস্থানের সমর্থন করেছে। রাশিয়া ও চীন, উভয়েরই মাদুরো সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছে।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। মাদুরোর অপসারণ একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি করেছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র গভীর রাজনৈতিক বিভাজন এবং স্বৈরাচারী শাসনের ইতিহাস রয়েছে এমন একটি দেশে স্থিতিশীল ও বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, এই অঞ্চলে আরও সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাৎক্ষণিক পরবর্তী পদক্ষেপগুলো অস্পষ্ট, তবে সম্ভবত একটি অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি संक्रमण প্রক্রিয়া শুরু করা, যার মধ্যে নতুন নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment