ডিসেম্বর মাসে মিয়ানমারের নির্বাচনকালীন সময়ে একজন কর্মী জনমানবশূন্য ১৬-লেনের একটি মহাসড়ক ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এটি দেশটির ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার কর্তৃক নির্মিত রাজধানী শহরের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। "রাজাদের আবাস" হিসেবে পরিচিত এই শহরটি মিয়ানমারের সামরিক নেতাদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে এই শতাব্দীর শুরুতে নির্মিত হয়েছিল, যারা অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন।
নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত বিশ্লেষকদের মতে, নেপিদোর বিশাল আকার এবং প্রতিরক্ষামূলক নকশা বহিরাগত হুমকির প্রতি জান্তার ভয় এবং এর সর্বগ্রাসী প্রদর্শনের প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে। শহরটির জনশূন্যতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য ব্যস্ত শহরগুলোর বিপরীতে সামরিক শাসনের অধীনে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রাক্তন রাজধানী ইয়াঙ্গুন থেকে দূরে নেপিদোর নির্মাণ জান্তার ক্ষমতা সুসংহত করার এবং সম্ভাব্য বিদ্রোহ থেকে নিজেকে রক্ষা করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। ২০০৬ সালে সরকারি মন্ত্রণালয় এবং কর্মীদের নতুন রাজধানীতে স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়, যা মিয়ানমারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করে। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সমালোচিত হয়েছিল, যারা বেসামরিক কর্মচারীদের জোরপূর্বক স্থানান্তর এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতার অভাবের নিন্দা জানিয়েছিল।
শহরটির অবকাঠামো, যার মধ্যে রয়েছে প্রশস্ত বুলেভার্ড এবং অসংখ্য সরকারি ভবন, বর্তমানে বসবাসকারী জনসংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে এক ধরনের শূন্যতা এবং কৃত্রিমতা তৈরি হয়েছে, যা নেপিদোর "ভূতুড়ে শহর" হিসেবে খ্যাতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিত্যক্ত ট্যাঙ্ক সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিষেবা জাদুঘর কমপ্লেক্সটি সামরিক বাহিনীর আধিপত্যের নীরব অনুস্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দ্বারা অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে নেপিদোতে ভোট দিতে দেখা গেছে। নির্বাচনের ফলাফল অনেক দেশ কর্তৃক স্বীকৃত নয়, যা বিশ্ব মঞ্চে মিয়ানমারকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে নেপিদোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment