ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলা করার জন্য তৈরি করা আইন বাস্তবায়নে সরকারের কথিত বিলম্বের কারণে সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রোক এআই-এর উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই সমালোচনা আরও বেড়েছে। গ্রোক এআই হলো নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল, যা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত সিনথেটিক মিডিয়া তৈরি করতে সক্ষম। সমালোচকরা বলছেন, এই বিলম্বের কারণে সমাজ ডিপফেক-এর সম্ভাব্য ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে, যার মধ্যে ভুল তথ্য প্রচার, সম্মানহানি এবং এমনকি আর্থিক জালিয়াতিও অন্তর্ভুক্ত।
উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক্সএআই (xAI) দ্বারা তৈরি গ্রোকের মতো এআই সরঞ্জামগুলোর ক্রমবর্ধমান পরিশীলিততা এবং সহজলভ্যতা। গ্রোক, অন্যান্য বৃহৎ ভাষা মডেলের (এলএলএম) মতো, বিপুল পরিমাণ টেক্সট এবং চিত্রের ডেটাসেটের ওপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষিত, যা এটিকে বাস্তবসম্মত টেক্সট, ছবি এবং ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম করে। এই সক্ষমতা, একদিকে যেমন কন্টেন্ট তৈরি এবং শিক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলোতে সম্ভাব্য সুবিধা নিয়ে আসে, তেমনই অন্যদিকে এটির খারাপ ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিও তৈরি করে। এই ধরনের সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি ডিপফেকগুলো শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে, ফলে আসল এবং জাল কন্টেন্টের মধ্যে পার্থক্য করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলির এআই এথিক্সের অধ্যাপক ডঃ Anya Sharma বলেন, "ডিপফেক নিয়ন্ত্রণে আমরা যত দেরি করব, খারাপ উদ্দেশ্য থাকা ব্যক্তিদের এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ ততই বাড়বে।" "আমাদের স্পষ্ট আইনি কাঠামোর প্রয়োজন, যা একটি ডিপফেক কী, তা সংজ্ঞায়িত করবে, এর অপব্যবহারের জন্য দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করবে এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা করবে।"
প্রস্তাবিত আইনটি, যা বেশ কয়েক মাস ধরে বিবেচনাধীন, ডিপফেকগুলোর আইনি সংজ্ঞা তৈরি করে, তাদের ক্ষতিকর সৃষ্টি ও বিতরণের জন্য শাস্তির বিধান রেখে এবং কন্টেন্ট প্রমাণীকরণের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করে এই উদ্বেগগুলো মোকাবিলার লক্ষ্য রাখে। তবে, জানা গেছে যে, বিধিগুলোর পরিধি এবং বাকস্বাধীনতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মতবিরোধের কারণে বিলটির অগ্রগতি থমকে গেছে।
কেউ কেউ বলছেন যে অতিরিক্ত বিস্তৃত বিধিমালা এআই প্রযুক্তির বৈধ ব্যবহার, যেমন - ব্যঙ্গ এবং শৈল্পিক অভিব্যক্তিকে দমিয়ে দিতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে ডিপফেকের সম্ভাব্য ক্ষতি এই উদ্বেগের চেয়ে অনেক বেশি এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার জন্য কঠোর বিধিমালা প্রয়োজন।
এই বিতর্ক দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের জটিল চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে। নীতিনির্ধারকদের উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার এবং অপ্রত্যাশিত পরিণতি এড়ানোর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সমাজের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
আইনটির বর্তমান অবস্থা এখনও অনিশ্চিত। সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন যে তারা ডিপফেকের বিষয়টি সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে বিলটি কবে চূড়ান্ত হতে পারে, সে সম্পর্কে কোনো সময়সীমা জানাননি। এর মধ্যে, বিশেষজ্ঞরা ব্যক্তি এবং সংস্থাগুলোকে ডিপফেকের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং এর প্রভাব সনাক্ত ও হ্রাস করার কৌশল তৈরি করার আহ্বান জানাচ্ছেন। বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানিও ডিপফেক সনাক্ত করার জন্য সরঞ্জাম তৈরি করার জন্য কাজ করছে, তবে প্রযুক্তি ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে, যা সৃষ্টিকর্তা এবং সনাক্তকারীদের মধ্যে একটি অবিরাম প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment