গ্রিনল্যান্ডকে রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য অধিগ্রহণ থেকে বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের এটির "মালিকানা" দরকার, এমনটাই জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটির প্রতি তার প্রশাসনের আগ্রহের পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। শুক্রবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "দেশগুলোর মালিকানা থাকতে হয় এবং আপনারা মালিকানা রক্ষা করেন, আপনারা লিজ রক্ষা করেন না। আর আমাদের গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে হবে।" বিবিসি'র এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র "সহজ উপায়ে" অথবা "কঠিন উপায়ে" এটি করবে।
হোয়াইট হাউস সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে তারা ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে, যদিও তারা জোরপূর্বক অধিগ্রহণের সম্ভাবনা বাতিল করেনি। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয়ই অঞ্চলটি বিক্রির ধারণা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ডেনমার্ক সতর্ক করেছে যে সামরিক পদক্ষেপ ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোটকে বিপন্ন করবে।
গ্রিনল্যান্ডের বিরোধী দলসহ অন্যান্য দলের নেতারা শুক্রবার রাতে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন, যেখানে তারা "আমাদের দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবজ্ঞা বন্ধ করার" দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে যে গ্রিনল্যান্ডবাসী আমেরিকান বা ড্যানিশ হতে চায় না, তারা গ্রিনল্যান্ডীয় হিসেবে থাকতে চায়।
ট্রাম্পের দেওয়া জাতীয় মালিকানা ও সুরক্ষার ধারণাটি, উত্তর মেরু অঞ্চলে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায়, গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান জাহাজ চলাচল, সম্পদ আহরণ এবং সামরিক অবস্থানের জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর ফলে রাশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক শক্তি উত্তর মেরুতে নিজেদের উপস্থিতি establishment করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ভূমি অধিগ্রহণের ঐতিহাসিক নজির রয়েছে, যেমন ১৮০৩ সালে লুইজিয়ানা ক্রয় এবং ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা ক্রয়। এই অধিগ্রহণগুলো ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনা এবং সম্পদ ও কৌশলগত সুবিধা সুরক্ষিত করার আকাঙ্ক্ষা দ্বারা চালিত হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি উত্তর মেরুতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে। ডেনমার্ক সরকার মনে করে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মার্কিন প্রশাসন তাদের প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ এখনও স্পষ্ট করেনি। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং উত্তর মেরু অঞ্চলের ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment