গ্রীনল্যান্ডের বাসিন্দারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন কারণ দ্বীপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত একটি ভূ-রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চলটির প্রতি নতুন করে আগ্রহের কারণে। ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এই গ্রীনল্যান্ড। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য মার্কিন অধিগ্রহণের পরামর্শের কারণে এই আগ্রহ আরও বেড়েছে।
গ্রীনল্যান্ড থেকে ইউরোপ সম্পাদক ক্যাট্যা অ্যাডলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নতুন মনোযোগ অনেক গ্রীনল্যান্ডবাসীকে অস্থির করে তুলেছে। আর্কটিক এবং আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝে ভৌগোলিকভাবে অবস্থিত এই দ্বীপটি যুক্তরাজ্যের চেয়ে নয় গুণ বড় কিন্তু এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব খুবই কম। মাত্র ৫৭,০০০ জন বাসিন্দা রয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই আদিবাসী ইনুইট। জনসংখ্যার বেশিরভাগই দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের রাজধানী নুুকে বসবাস করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও আগামী সপ্তাহে ডেনিশ এবং গ্রীনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সাথে গ্রীনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকগুলি গ্রীনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব, বিশেষ করে এর অবস্থান এবং সম্ভাব্য সম্পদকে তুলে ধরে।
আর্কটিকে গ্রীনল্যান্ডের অবস্থান জলবায়ু পরিবর্তন এবং আর্কটিক সম্পদ ও শিপিং রুটের ক্রমবর্ধমান সহজলভ্যতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এটিকে একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। বরফ গলতে থাকার কারণে খনিজ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাব্য মজুদ উন্মোচিত হয়েছে, যা বিশ্ব শক্তিগুলোর আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আর্কটিকের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রীনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে আসন্ন আলোচনার ফলাফল সম্ভবত দ্বীপ এবং এর জনগণের ভবিষ্যৎ গঠন করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment