২০২৬ সালের শুরুতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় একটি অভিযান শুরু করে, যার ফলস্বরূপ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির একটি সম্প্রসারণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির দিকে পরিবর্তন হতে পারে। ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ডিসি যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান যে, তার সরকার এখন ভেনেজুয়েলার দায়িত্বে রয়েছে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলো দেশটির তেল সম্পদ ব্যবহার করতে প্রস্তুত।
ট্রাম্পের মতে, এই অভিযানটি কোনো মার্কিন হতাহত ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে, যদিও তিনি ভেনেজুয়েলা এবং কিউবার ব্যক্তিদের মধ্যে হতাহতের কথা স্বীকার করেছেন। ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর, ট্রাম্প নাকি অন্যান্য দেশকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা অনুরূপ হস্তক্ষেপের শিকার হতে পারে।
ভেনেজুয়েলার ঘটনাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রকৃতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেখান যে, এই পদক্ষেপগুলো সাম্রাজ্যবাদের একটি নতুন রূপ, যা সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সম্পদ উত্তোলনের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি ঐতিহ্যবাহী মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি সরল সংস্করণ, যা কূটনৈতিক সৌজন্যতা থেকে মুক্ত।
প্রশাসনের পদক্ষেপের সমালোচকরা আন্তর্জাতিক আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘন এবং অঞ্চলের উপর এর অস্থিতিশীল প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করেন। তারা যুক্তি দেখান যে, এই ধরনের হস্তক্ষেপ দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে এবং আরও সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে সমর্থকরা মনে করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের তার স্বার্থ রক্ষা এবং বিদেশে গণতন্ত্রকে উন্নীত করার দায়িত্ব রয়েছে, এমনকি এর জন্য দৃঢ় পদক্ষেপের প্রয়োজন হলেও।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, মার্কিন সরকার একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশকে স্থিতিশীল করার জন্য কাজ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর এই পদক্ষেপগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও দেখার বিষয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঘনিষ্ঠভাবে এই ঘটনার দিকে নজর রাখছে, অনেক দেশ আরও হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ক্ষুণ্ন হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment