ডিপফেক নিয়ে উদ্বেগের কারণে যুক্তরাজ্যে X নিষিদ্ধ হতে পারে, এমনটাই জানিয়েছেন একজন সরকারি মন্ত্রী। মন্ত্রীর মতে, রাজনৈতিক অঙ্গনসহ জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এমন এআই-ভিত্তিক কন্টেন্টের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সরকার বর্তমানে প্রচলিত আইনগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে যে ডিপফেক থেকে উদ্ভূত ঝুঁকি মোকাবিলায় সেগুলো যথেষ্ট কিনা। মন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, "জনগণকে ভুল তথ্য ও কারসাজি থেকে রক্ষা করতে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা সহ আমরা সমস্ত বিকল্প বিবেচনা করছি।" এই পর্যালোচনায় নির্বাচন, জনমত এবং জাতীয় নিরাপত্তার উপর ডিপফেকের প্রভাব বিবেচনা করা হবে।
ডিপফেক হলো এমন ভিডিও বা অন্য কোনো মাধ্যম যা কারসাজি করে বা তৈরি করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে একজন ব্যক্তি এমন কিছু করছেন বা বলছেন যা তিনি করেননি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ক্রমশ অত্যাধুনিক এবং সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে এই প্রযুক্তি মিথ্যা তথ্য ছড়াতে, সম্মানহানি করতে এবং সহিংসতা উস্কে দিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
এই প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি কোম্পানি এবং নাগরিক অধিকার আইনজীবীদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন যে ক্ষতিকর ডিপফেক তৈরি ও প্রচার বন্ধ করতে নিষেধাজ্ঞা জরুরি, আবার কেউ কেউ সম্ভাব্য সেন্সরশিপ এবং বৈধ শৈল্পিক অভিব্যক্তি রোধের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
একটি ডিজিটাল অধিকার সংস্থার মুখপাত্র বলেন, "ক্ষতি থেকে জনসাধারণকে বাঁচানো এবং বাকস্বাধীনতা রক্ষার মধ্যে আমাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একটি ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা অপ্রত্যাশিত পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং এআই প্রযুক্তির বৈধ ব্যবহারকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করতে পারে।"
মন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় X এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে, কোম্পানিটি এর আগে তাদের প্ল্যাটফর্মে ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ডিপফেক শনাক্ত ও অপসারণের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে।
সরকারের পর্যালোচনা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, এরপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তে সম্ভবত শিল্প সংশ্লিষ্ট পক্ষ, আইন বিশেষজ্ঞ এবং জনসাধারণের সাথে আলোচনা করা হবে। এর ফলাফল অন্যান্য দেশ কীভাবে ডিপফেক এবং অন্যান্য এআই-ভিত্তিক কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ করে, তার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment