মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে বারবার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ন্যাটো মিত্র এই অঞ্চলটির কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে তিনি এমন আগ্রহ দেখিয়েছেন। ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মিলিত হয়েছেন এবং হোয়াইট হাউসের নতুন একটি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার জন্য তারা আগামী সপ্তাহে আবারও বসবেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগে দ্বীপটি অধিগ্রহণের জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহারের মতো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, স্থানীয় জনগণের পছন্দ-অপছন্দ নির্বিশেষে তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পদক্ষেপ নিতে চান। তিনি আরও বলেন, "যদি সহজ উপায়ে না হয়, তবে আমরা কঠিন উপায়ে করব।" যদিও তিনি এর মাধ্যমে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। বৃহস্পতিবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা থাকলে এমন সব সম্পদ ও উপাদানের নাগাল পাওয়া যাবে, যা কেবল চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকা অধিগ্রহণ করলে ন্যাটোর অখণ্ডতা বিপন্ন হবে। গ্রিনল্যান্ডের জনগণও যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিরোধিতা করেছে।
এই সম্ভাব্য অধিগ্রহণ শাসন ও সামাজিক কল্যাণ নিয়ে জটিল প্রশ্ন তৈরি করেছে। ফোর্বসের উদ্ধৃত এক বিশেষজ্ঞের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তবে সম্ভবত তাদের একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটি এমন একটি সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থা, যা ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের জন্য বাস্তবায়ন করতে দ্বিধা বোধ করতে পারেন। এই দাবি ট্রাম্পের ঘোষিত উদ্দেশ্য এবং একটি স্বতন্ত্র সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পন্ন অঞ্চল শাসনের বাস্তবতার মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতকে তুলে ধরে।
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয়। ঐতিহাসিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে, বিশেষ করে ঠান্ডা যুদ্ধের সময়। অতীতে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রচেষ্টা সফল হয়নি, তবে বর্তমান প্রশাসনের নতুন করে আগ্রহ দ্বীপটির ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্যকেই তুলে ধরে।
মার্কিন, ডেনিশ ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক চলমান আলোচনার ইঙ্গিত দেয়, যদিও এই আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনার মাধ্যমে হোয়াইট হাউস দ্বীপটি অধিগ্রহণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, এমনটাই মনে হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল, বৈঠকের পরবর্তী রাউন্ডে সম্ভাব্য পথ সম্পর্কে আরও আলোকপাত করা হবে বলে আশা করা যায়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment