এই রেকর্ড উদ্বৃত্ত বিদেশে বিক্রি হওয়া পণ্য ও পরিষেবার মূল্যের তুলনায় আমদানির পরিমাণকে প্রতিফলিত করে। চীনের কাস্টমস ডেটা অনুসারে, 2025 সালে মাসিক রপ্তানি উদ্বৃত্ত সাতবার 100 বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা চীনের বিশ্ব বাণিজ্যের উপর মার্কিন শুল্কের সীমিত সামগ্রিক প্রভাব নির্দেশ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য দুর্বল হলেও, চীন অন্যান্য অঞ্চলে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকাতে রপ্তানি বাড়িয়ে এর ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছে।
চীনের কাস্টমসের উপ-পরিচালক ওয়াং জুন এক প্রেস কনফারেন্সে এই পরিসংখ্যানকে "অসাধারণ এবং কষ্টার্জিত" বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি এই সাফল্যের কারণ হিসেবে শক্তিশালী বিদেশী চাহিদাকে উল্লেখ করেছেন এবং সবুজ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত পণ্য এবং রোবোটিক্সের রপ্তানি বৃদ্ধির কথা জানান। ওয়াং বিশ্ব বাণিজ্যে "গভীর পরিবর্তন" এবং চ্যালেঞ্জগুলিকেও স্বীকার করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা মোকাবেলার জন্য চীনের উপর বিলিয়ন ডলার মূল্যের চীনা পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করে চীনের সাথে একটি বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করে। এই শুল্কের উদ্দেশ্য ছিল চীনকে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষা, বাজার সুবিধা এবং অন্যান্য বিষয়ে ছাড় দিতে চাপ দেওয়া।
শুল্ক থাকা সত্ত্বেও, চীনের সামগ্রিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বাড়তে থাকে, যা মার্কিন বাণিজ্য নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কিছু অর্থনীতিবিদ যুক্তি দেখান যে শুল্ক মূলত আমেরিকান ভোক্তা এবং ব্যবসার ক্ষতি করেছে, অন্যরা মনে করেন যে এটি চীনকে আলোচনা করতে চাপ দিয়েছে। পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক্স 2025 সালের শেষের দিকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায় যে শুল্কের সামগ্রিক মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতির উপর নগণ্য প্রভাব পড়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা জটিল। কিছু শুল্ক এখনও বহাল থাকলেও, উভয় দেশ বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের অগ্রগতি সম্ভবত বিবর্তনশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সেইসাথে এই আলোচনার ফলাফলের উপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment