যুক্তরাজ্য দেশটির পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে রেকর্ড সংখ্যক অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি করেছে। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলস জুড়ে অবস্থিত এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্কটল্যান্ডের উপকূলে উত্তর সাগরে পরিকল্পিত বিশ্বের বৃহত্তম অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র বারউইক ব্যাংকও রয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকার মনে করে যে এই বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো নতুন গ্যাস পাওয়ার প্ল্যান্টের চেয়ে বেশি সাশ্রয়ী বিকল্প সরবরাহ করে, যা শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের বিল কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ ক্ষমতার এই উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের পরেও, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের লক্ষ্য অর্জনে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। কনজারভেটিভ পার্টি এর আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয়ের কারণ, এই একই ধরনের অনুভূতি ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা জুড়ে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎসের দিকে পরিবর্তনের সামর্থ্য নিয়ে বিতর্কগুলোতেও প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
চুক্তি পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে ইয়র্কশায়ারের উপকূলে ডগার ব্যাংক সাউথ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পূর্ব অ্যাংলিয়ার উপকূলে নরফোক ভ্যানগার্ড প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আউয়েল ওয়াই মোর এক দশকের মধ্যে প্রথম সফল ওয়েলশ প্রকল্প, যা এই অঞ্চলে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ক্রিস স্টার্ক সরকারের পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করছেন।
এই উন্নয়নের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট হলো জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমিত করার জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎসের দিকে যাওয়ার জন্য ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপ। বিশ্বজুড়ে দেশগুলি জ্বালানি সুরক্ষা, সামর্থ্য এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জের সাথে লড়াই করছে। অফশোর বায়ুবিদ্যুতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ ডেনমার্ক, জার্মানি এবং চীনের মতো দেশগুলোর অনুরূপ প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে, যারা সকলেই তাদের বৃহত্তর জলবায়ু কৌশলের অংশ হিসেবে বায়ুবিদ্যুতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে।
অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিকাশে সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশগত বিবেচনাও রয়েছে। উপকূলীয় সম্প্রদায়গুলো, বিশেষ করে যারা মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল, তারা প্রায়শই সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান এবং ঐতিহ্যবাহী জীবিকার উপর এই প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এই প্রকল্পগুলো যাতে একটি টেকসই এবং ন্যায্য পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় তা নিশ্চিত করার জন্য সতর্কতার সাথে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং কমিউনিটির সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অফশোর বায়ুবিদ্যুতের প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি একটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ভবিষ্যতের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তবে সামনের পথটিতে অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং সামাজিক বিবেচনার বিষয়গুলো সতর্কতার সাথে পরিচালনা করতে হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment