নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস মঙ্গলবার বেটার ইউএস (Betar US) নামক একটি কট্টর-ডানপন্থী ইসরায়েলপন্থী সংগঠনের সাথে একটি মীমাংসার ঘোষণা করেছেন। এই মীমাংসার ফলে সংস্থাটি ধীরে ধীরে নিউ ইয়র্ক রাজ্যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে। জেমসের অফিসের তদন্তের পর এই মীমাংসাটি হয়েছে। অভিযোগ ছিল বেটার ইউএস ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের হয়রানি করেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল জেমসের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তে জানা গেছে যে বেটার ইউএস মুসলিম, আরব, ফিলিস্তিনি এবং ইহুদি নিউ ইয়র্কবাসীদের লক্ষ্য করে ব্যাপক নিপীড়ন চালিয়েছে। মীমাংসার নির্দিষ্ট শর্তাবলী তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে জেমস মুক্ত মত প্রকাশের সুরক্ষা এবং উদ্দেশ্যমূলক হয়রানি প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়েছেন। জেমস বলেন, "নিউইয়র্ক এমন কোনো সংগঠনকে সহ্য করবে না যারা ভয়, সহিংসতা এবং ভীতি প্রদর্শন করে মুক্ত মত প্রকাশকে স্তব্ধ করে দেয় বা শুধুমাত্র তাদের পরিচয়ের কারণে মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করে।" "আমার অফিসের তদন্তে একটি আলা..." (প্রদত্ত পাঠ্যটি বাক্যটির মধ্যে শেষ হয়েছে)।
বেটার ইউএস একটি জায়নবাদী যুব আন্দোলন, যার বিতর্কিত কার্যকলাপ এবং সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস রয়েছে। এই গোষ্ঠীর মতাদর্শ রিভিশনিস্ট জায়নবাদের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং যা ম্যান্ডেটরি প্যালেস্টাইনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ইহুদি রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলে। সংস্থাটি তাদের আক্রমণাত্মক কৌশল এবং ইসরায়েলের সমালোচকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগের কারণে সমালোচিত হয়েছে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সাথে জড়িত সংস্থাগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও কঠোর নজরদারির মধ্যে বেটার ইউএস-এর সাথে এই মীমাংসাটি হলো। ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা ইসরায়েলপন্থী দলগুলোর দ্বারা কথিত হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের কৌশল সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে ইসরায়েলের সমর্থকরা ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ ও জায়নবাদ-বিরোধীতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এখনও মীমাংসা চুক্তির সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেনি। বেটার ইউএসকে নিউ ইয়র্কে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার জন্য কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগামী দিনে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি বাক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের জটিলতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে তুলে ধরে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment