সোমালিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) থেকে আসা বাইরের সাহায্য সোমালিয়ার মধ্যে বিভাজন ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন, যা ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে। মন্ত্রী জানান, সোমালিল্যান্ড, পুন্টল্যান্ড এবং জুবাল্যান্ড-সহ বিভিন্ন অঞ্চল সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে বিভিন্ন মাত্রায় সহায়তা পেয়েছে।
মন্ত্রীর এই মন্তব্য সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জড়িত থাকার বিষয়ে চলমান উত্তেজনাকে তুলে ধরে। যদিও সহায়তার নির্দিষ্ট বিবরণ প্রদত্ত উৎস উপাদানে প্রকাশ করা হয়নি, তবে অভিযোগ থেকে বোঝা যায় যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পদক্ষেপ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে উৎসাহিত করেছে এবং মোগাদিশুতে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্বকে দুর্বল করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সোমালিল্যান্ডে বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিরোধসহ বেশ কয়েকটি কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোমালিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। সোমালি সরকার ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে যে এই ধরনের চুক্তি তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। উপরন্তু, কাতার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংকটে সোমালিয়া নিরপেক্ষ রয়েছে, যে জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে। এই অবস্থানে আমিরাতি কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এটা মনে রাখা দরকার যে সংযুক্ত আরব আমিরাত এর আগে সোমালিয়ায় তাদের কার্যকলাপের পক্ষ সমর্থন করে বলেছে যে তাদের প্রকল্পগুলোর লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা। আমিরাতি কর্মকর্তারা সোমালিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের অঙ্গীকারের কথাও জানিয়েছেন।
সোমালিল্যান্ড, পুন্টল্যান্ড এবং জুবাল্যান্ডের সরকারগুলো এখনো পর্যন্ত সোমালি মন্ত্রীর অভিযোগের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি। এই অভিযোগগুলো সোমালিয়ার জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং এর ফলে সোমালিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমালি সরকার কী ধরনের নীতিগত পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পরিস্থিতি আরও বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং আঞ্চলিক কর্মকর্তারা এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানালে আরও নতুন কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment