ইরানে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা ২,৫০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মীদের নিউজ এজেন্সি বুধবারের শুরুতে জানায় যে, দমন-পীড়নে কমপক্ষে ২,৫৭১ জন নিহত হয়েছেন।
ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো মূলত ইরানের দুর্বল অর্থনীতি নিয়ে ক্ষোভের কারণে শুরু হয়েছিল। তবে, এগুলো দ্রুত দেশটির ধর্মতান্ত্রিক সরকার, বিশেষ করে ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রথম সরকারিভাবে মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে, একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় যে দেশে "অনেক শহীদ" হয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে এই বিক্ষোভগুলো ইরানের অস্থিরতার সবচেয়ে মারাত্মক সময়কে উপস্থাপন করে। এই বিপ্লব শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির অধীনে থাকা ইরানকে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি নেতৃত্বাধীন একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করে। এই বিপ্লবের মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের উপর গভীর প্রভাব ছিল, যা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনের একটি নতুন যুগের সূচনা করে।
কর্তৃপক্ষ দমন-পীড়নের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বলে জানা গেছে, তবে ইরানিরা মঙ্গলবার কয়েক দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিদেশে ফোন করতে সক্ষম হন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই কৌশলটি ইরানের আগের অস্থিরতার সময়গুলোতেও ব্যবহার করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্টের বিক্ষোভ এবং ২০১৯ সালের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের সরকারের বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের নিন্দা জানিয়েছে এবং হত্যার একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘও ইরানকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে, এবং পরবর্তী ঘটনা কী হবে তা স্পষ্ট নয়। ইরান সরকার পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখায়নি, এবং কিছু এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাগুলো ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment