কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং কানাডা ও চীনের মধ্যে tana relations নিরসনের লক্ষ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং পৌঁছেছেন। এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অনিশ্চয়তার মধ্যে তার বাণিজ্য সম্পর্ককে বহুমুখী করতে চাইছে।
২০১৮ সালে কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত এক চীনা ব্যবসায়িক নির্বাহীকে গ্রেপ্তার করার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যায়, যার পরে চীন দুই কানাডীয় নাগরিককে আটক করে। কানাডার অনেকের কাছে এই আটককে স্বেচ্ছাচারী হিসেবে দেখা হয়, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। উভয় দেশ কর্তৃক মূল রপ্তানির উপর প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। চীন কানাডীয় ক্যানোলা তেল এবং অন্যান্য কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করে, যার জবাবে কানাডাও অনুরূপ পদক্ষেপ নেয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে যে মি. কার্নি চীনা কর্মকর্তাদের সাথে তার বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক উদ্বেগের বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য হল বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে ব্যাহত করে এমন অমীমাংসিত বিরোধগুলি সমাধানের একটি পথ খুঁজে বের করা।
কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে চীনের উপর কানাডার নতুন করে মনোযোগ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি বাস্তবসম্মত প্রতিক্রিয়া। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাণিজ্যের উপর একটি সংরক্ষণবাদী অবস্থান নিয়েছেন, যা কানাডীয় ব্যবসার জন্য অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। চীনের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক স্থাপন কানাডাকে তার রপ্তানির জন্য একটি বিকল্প বাজার সরবরাহ করতে পারে এবং মার্কিন অর্থনীতির উপর নির্ভরতা কমাতে পারে।
তবে, এই সফর কানাডার কিছু মহলে সমালোচিতও হয়েছে, যেখানে চীনের মানবাধিকার রেকর্ড এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি হলো, কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থকে তার মূল্যবোধের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয় এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসনের মতো বিষয়গুলোতে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখা উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের শেষে একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি আলোচনা সম্পর্কে একটি আপডেট জানাবেন এবং কানাডা-চীন সম্পর্কের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরবেন। এই সফরের ফলাফল উভয় দেশের ব্যবসা এবং নীতিনির্ধারকদের দ্বারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, কারণ এটি আগামী বছরগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment