২০১৫ সালে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এইডস, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের মহামারী ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার অঙ্গীকার করে, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এই লক্ষ্যগুলির মধ্যে ছিল সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জন এবং সবার জন্য, সর্বত্র নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা।
অঙ্গীকারের পর প্রথম পাঁচ বছরে নবজাতক ও শিশু মৃত্যুহার এবং নতুন এইচআইভি সংক্রমণ হ্রাসসহ কিছু অগ্রগতি সাধিত হলেও, কোভিড-১৯ মহামারী, চলমান যুদ্ধ এবং অন্যান্য অস্থিতিশীলতাজনিত কারণ এই লক্ষ্যগুলির দিকে অগ্রগতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত করেছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় থাকা বিশ্বের জনসংখ্যার অনুপাত বাড়তে থাকে, তবে ২০১৫ সালের আগের তুলনায় ধীর গতিতে।
জাতিসংঘের সমস্ত সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত SDGs, এখন এবং ভবিষ্যতের জন্য মানুষ ও পৃথিবীর শান্তি ও সমৃদ্ধির একটি সম্মিলিত নীলনকশা উপস্থাপন করে। ৩ নম্বর লক্ষ্যটি বিশেষভাবে সকলের জন্য সকল বয়সে সুস্থ জীবন নিশ্চিতকরণ এবং সুস্থতার প্রচারে আলোকপাত করে। ২০১৫ সালে করা অঙ্গীকারটিকে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়েছিল, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সাধারণ লক্ষ্যে জাতিগুলোকে একত্রিত করেছিল।
তবে, ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার, অন্যান্য বাধার মধ্যে, কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং সম্পদ বরাদ্দকে পরিচালিত করার জন্য উচ্চ-মানের প্রমাণের জরুরি প্রয়োজনকে তুলে ধরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতি জটিল, সফল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রেক্ষাপট এবং সাংস্কৃতিক বিষয়গুলির একটি সূক্ষ্ম ধারণা প্রয়োজন। 2030 সালের লক্ষ্য অর্জনের পথে যেসব বাধা রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সর্বোত্তম অনুশীলনের আদান-প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখন মনোযোগ পুনরুদ্ধার এবং SDGs-এর দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য নতুন প্রচেষ্টা এবং উদ্ভাবনী কৌশলগুলির দিকে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা জোরদার করা, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করা এবং স্বাস্থ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নির্ধারকগুলির মোকাবিলা করা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেবল সাম্প্রতিক বছরগুলির ধাক্কা সামলানোই নয়, ভবিষ্যতের জন্য আরও স্থিতিস্থাপক এবং ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment