২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির চেষ্টার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর দেশটির শেয়ারবাজারে সামান্য পতন দেখা যায়। এই রায়ের ঘোষণার পর প্রাথমিক লেনদেনে কোরিয়া কম্পোজিট স্টক প্রাইস ইনডেক্স (KOSPI) শুরুতে ০.৩% কমে যায়, যা আরও রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা প্রতিফলিত করে। যদিও দিনের লেনদেন শেষে বাজার অনেকটা পুনরুদ্ধার হয়, তবে এই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির ওপর রাজনৈতিক উন্নয়নের সংবেদনশীলতাকে তুলে ধরে।
ক্ষমতার অপব্যবহার, ন্যায়বিচারে বাধা দেওয়া এবং নথি জালিয়াতির অভিযোগে ইউনের বিরুদ্ধে এই রায় ইতিমধ্যে অস্থির দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও একটি জটিলতা যোগ করেছে। আর্থিক প্রভাবের কারণ হলো নীতি প্রণয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা। ২০২৪ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) ১৮.০৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল মনে হলে তা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
এখানে বাজারের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি মূলত প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় গাড়ির মতো রপ্তানির উপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক অস্থিরতা সরবরাহ শৃঙ্খল, বাণিজ্য আলোচনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে ব্যাহত করতে পারে। ইউনের বিরুদ্ধে চলমান বিচার, যার মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যার জন্য আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড চাইছেন, তা এই অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার রায় ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা, যা সম্ভবত বাজারের sentiment-এর উপর আরও বেশি প্রভাব ফেলবে।
২০২৪ সালে ইউনের অভিশংসন এবং পরবর্তী বিচার দক্ষিণ কোরিয়ার সমাজের গভীরে থাকা বিভেদকে উন্মোচিত করেছে। সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টা স্বল্পস্থায়ী হলেও, এটি ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইউনকে জবাবদিহি করার জন্য বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত আইনের শাসনের বিষয়ে একটি জোরালো বার্তা দেয়, তবে এটি রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়কালকেও দীর্ঘায়িত করে।
সামনের দিকে তাকালে, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বাকি বিচারগুলোর নিষ্পত্তি এবং সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষমতার ওপর। ব্যবসা মহল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সেই অনুযায়ী তাদের বিনিয়োগ কৌশলগুলো সামঞ্জস্য করবে। বিশেষ করে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার রায়ের আগে বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment