প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার ২০শে জানুয়ারি থেকে শুরু করে এক বছরের জন্য ১০%-এ বেঁধে রাখার সাম্প্রতিক প্রস্তাব সমর্থন ও বিরোধিতা দুটোই সৃষ্টি করেছে। ৯ই জানুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে ঘোষিত এই প্রস্তাবটি ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার একটি প্রতিজ্ঞা, যা সাশ্রয়ী মূল্যের উদ্বেগকে মোকাবিলার প্রচেষ্টা হিসাবে তৈরি করা হয়েছে, তা পুনর্বিবেচনা করে।
প্রস্তাবিত ক্যাপের সমর্থকরা মনে করেন যে এটি উচ্চ ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারে জর্জরিত পরিবারগুলোকে স্বস্তি দিতে পারে, যা বর্তমানে গড়ে ২০% এর উপরে। তবে, অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংকিং নির্বাহীরা এই ধরনের নীতির সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
বিতর্কের একটি মূল বিষয় হল কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা, কারণ ক্যাপ বাস্তবায়নের জন্য আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে। সমালোচকরা আরও পরামর্শ দিচ্ছেন যে ক্যাপটি অপ্রত্যাশিত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, যেমন ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে আরও দ্বিধা বোধ করতে পারে, বিশেষ করে উচ্চ-ঝুঁকির ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে। ফলস্বরূপ, এটি ভোক্তা ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলের অর্থনীতির অধ্যাপক ব্রেট হাউস প্রস্তাবটির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। হাউস বলেন, "ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারের উপর একটি কৃত্রিম ক্যাপ সম্ভবত হোয়াইট হাউসের উপরই বিরূপ প্রভাব ফেলবে, কারণ এটি নগদ-সংকটে থাকা পরিবারগুলোর জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন করে তুলবে, যাদের এটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।"
আমেরিকান ব্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক আয় সংক্রান্ত আলোচনার সময় প্রস্তাবটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। নির্বাহীরা সাধারণত একমত হন যে ১০% ক্যাপ সম্ভবত কম ক্রেডিট স্কোরযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ঋণের সুযোগ সীমিত করবে এবং ভোক্তা ব্যয় ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যাংকিং খাত আশঙ্কা করছে যে এই ক্যাপ লাভের মার্জিন কমিয়ে দিতে পারে এবং তাদের ঝুঁকি মডেলগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।
প্রস্তাবিত সুদের হারের ক্যাপ নিয়ে বিতর্ক ভোক্তা সুরক্ষা, অর্থনৈতিক নীতি এবং আর্থিক শিল্পের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে। প্রস্তাবটি যখন সামনে এগোচ্ছে, তখন আইনপ্রণেতা, অর্থনীতিবিদ এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে যাচাই-বাছাইয়ের সম্মুখীন হওয়ার কথা, যারা এর সম্ভাব্য সুবিধাগুলোর বিপরীতে সম্ভাব্য অসুবিধাগুলো বিবেচনা করবেন। পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে কংগ্রেসের সমর্থনের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবগুলোর আরও বিশ্লেষণ জড়িত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment