মার্কিন এক কর্মকর্তার মতে, সিআইএ-র পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বৃহস্পতিবার কারাকাসে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে দুই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে" এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আটক করার পর আস্থা ও যোগাযোগ স্থাপন করা।
মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, র্যাটক্লিফ এবং রদ্রিগেজ সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভেনেজুয়েলাকে "আমেরিকার শত্রুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল" হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম রাষ্ট্রীয় ভাষণ, এবং এই ভাষণ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
ভাষণের সময় রদ্রিগেজ তেল শিল্পে বৃহত্তর বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সংস্কারের ঘোষণা করেন, যা তার পূর্বসূরি মাদুরোর নীতি থেকে ভিন্ন। তিনি "রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে" যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন, পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার "মর্যাদা ও সম্মান" রক্ষার প্রতি অঙ্গীকারের ওপর জোর দেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করবে, যা ভেনেজুয়েলার জনগণ এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই রাজস্ব তৈরি করবে। একজন শীর্ষ কর্মকর্তা যোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এতে অবদান রাখবে।
বৈঠক এবং পরবর্তী ঘোষণাগুলো যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য পরিবর্তন নির্দেশ করে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক নীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। রদ্রিগেজের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য উন্মুক্ত করতে পারে, যা দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারে।
মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আটক করা এবং র্যাটক্লিফ ও রদ্রিগেজের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক ভেনেজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক সংকটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক সম্ভবত রদ্রিগেজের প্রস্তাবিত সংস্কারের বাস্তবায়ন এবং উভয় দেশের গঠনমূলক সংলাপে অংশগ্রহণের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। এই প্রতিবেদনে বিবিসি ও রয়টার্স অবদান রেখেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment