ইরানের ধর্মতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করে দেশব্যাপী বিক্ষোভগুলো বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ক্রমশ স্তিমিত হয়ে এসেছে বলে মনে হচ্ছে, কারণ এর আগে সরকার কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছে এবং প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। অধিকারকর্মীরা অনুমান করছেন যে বিক্ষোভের ওপর সরকারের দমন-পীড়নে কমপক্ষে ২,৬৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এই বিক্ষোভের সূত্রপাত গত মাসের শেষের দিকে দেশটির দুর্বল অর্থনীতি এবং মুদ্রার দরপতনের কারণে হয়েছিল।
ইরান সরকারের এই পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, যার মধ্যে বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে অভিযুক্ত ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা অন্যতম। হোয়াইট হাউস জোর দিয়ে বলেছে যে সম্ভাব্য আরও পদক্ষেপের ক্ষেত্রে "সমস্ত বিকল্প খোলা আছে"। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে হত্যাকাণ্ডগুলো কমে আসছে বলে মনে হচ্ছে, তবুও মার্কিন প্রতিশোধের সম্ভাবনা এই অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
ইরানের অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে ব্যাপক অসন্তোষের জের ধরে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কারণে আরও বেড়ে যায়। ইরানি মুদ্রার পতনের কারণে সাধারণ নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে সরকারের প্রতি হতাশা ও ক্ষোভ বেড়েছে। শিল্পোন্নত সাতটি দেশের গোষ্ঠী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও বিক্ষোভের ওপর ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অশান্তির প্রতিক্রিয়ায়, ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড দ্রুত করার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পদক্ষেপ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আরও সমালোচনা আকর্ষণ করেছে, যারা যুক্তি দেখাচ্ছে যে এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনি মান এবং যথাযথ প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে। সরকার বলছে যে দেশে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য তাদের এই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
বিক্ষোভের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যে সরকারের দমন-পীড়ন ও ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞার কারণে এর কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে, যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে আবারও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকট নিরসনে সম্ভাব্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment