ওষুধের দাম কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও, ১৬টি প্রধান ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি জানুয়ারিতে তাদের কিছু ওষুধের দাম বাড়িয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক পূর্ববর্তী মাসগুলোতে এই কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তি করার পরেও, যা চুক্তিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
সেপ্টেম্বর মাস থেকে চূড়ান্ত হওয়া চুক্তিগুলোর উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য ওষুধের দাম কমানো, যেখানে একটি "সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত জাতি" (most favored nation) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে, এই চুক্তিগুলোর সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো এখনো পর্যন্ত অনেকটাই অপ্রকাশিত। কোম্পানিগুলো চুক্তিতে সম্মত হলেও, দাম বাড়ানোর সময়টি, যা সাধারণত বছরের শুরুতে হয়ে থাকে, ইঙ্গিত দেয় যে চুক্তিগুলোর তালিকাভুক্ত দামের উপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয়, যেখানে সমালোচকরা যুক্তি দেখান যে ওষুধের উচ্চ মূল্য স্বাস্থ্যসেবার খরচ বাড়ায় এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্তি সীমিত করে। "সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত জাতি" পদ্ধতির লক্ষ্য ছিল অন্যান্য ধনী দেশগুলোর ওষুধের দামের সাথে তুলনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধের দাম নির্ধারণ করা, যা সম্ভবত ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক থাকার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাম কমাতে বাধ্য করবে।
এই ১৬টি কোম্পানি ব্র্যান্ড-নামযুক্ত ওষুধের বাজারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। ফাইজার, যার সিইও অ্যালবার্ট বোরলা ৩০ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে তাদের চুক্তির ঘোষণা করেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে প্রথম চুক্তি ঘোষণা করেছিল। এই ১৬টি কোম্পানি জানুয়ারিতে দাম বৃদ্ধি করায় চুক্তিগুলোর বাধ্যবাধকতা এবং পরিধি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সামনে তাকিয়ে, এই চুক্তিগুলোর কার্যকারিতা এবং ওষুধের দামের উপর তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অনিশ্চিত। চুক্তিগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছতার অভাবে ভোক্তাদের জন্য অর্থ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা কঠিন। এই চুক্তিগুলো সত্যিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের উচ্চ মূল্যের সমস্যা সমাধান করতে পারবে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য আরও বেশি তদন্ত এবং বিশ্লেষণের প্রয়োজন হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment