ইরানের ইন্টারনেট বন্ধ থাকার মধ্যে, অনলাইনে ভুল তথ্য এবং প্রচারণার ঢেউ দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার বাস্তবতা অস্পষ্ট করে তুলেছে। ভুল তথ্যের প্রবাহ এবং ইরানের তথ্য বিষয়ক পরিবেশের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, সাধারণভাবে বট নামে পরিচিত ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো এক্স (X) এবং ইনস্টাগ্রামের (Instagram) মতো সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে মিথ্যা এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ছড়াচ্ছে।
এই বটগুলো বিভ্রান্তিকর বা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছে, যা মাঠ পর্যায়ের ঘটনাগুলোর উপলব্ধি আরও কঠিন করে তুলেছে। এই বিষয়বস্তুগুলোর লক্ষ্য বিভিন্ন এজেন্ডাকে সমর্থন করা, যার মধ্যে ইরানের বিরোধীদের সমর্থন করাও রয়েছে। কিছু অ্যাকাউন্ট ইরানের প্রাক্তন শাহের পুত্র রেজা পাহলভির সমর্থন করছে। বিপরীতভাবে, অন্যান্য অ্যাকাউন্টগুলো ইরান সরকারের দাবি প্রতিধ্বনিত করছে যে, এই অস্থিরতা বিদেশি শত্রুদের দ্বারা পরিচালিত, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। এই ভাষ্যটি রাশিয়া তাদের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আউটলেটগুলোর মাধ্যমে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
গবেষকরা অনলাইনে পরিচালিত একাধিক সমন্বিত তথ্য প্রচারণার সন্ধান পেয়েছেন। তবে, এই প্রচারণাগুলোর সুনির্দিষ্ট উৎস নির্ধারণ করা এখনও কঠিন। ইরানের অভ্যন্তরে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট অ্যাক্সেসের অভাবে একটি তথ্যের শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা ভুল তথ্যকে অবাধে ছড়িয়ে দেওয়া সহজ করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইন্টারনেট সেন্সরশিপের সময় তথ্য বিষয়ক পরিবেশের দুর্বলতা তুলে ধরে।
জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য বট ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়, তবে এই ক্ষেত্রে যে ব্যাপকতা ও সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো প্রায়শই বাস্তবসম্মত দেখতে বিষয়বস্তু তৈরি করতে এবং মানুষের আচরণ নকল করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো কৌশল ব্যবহার করে, যা তাদের শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে। সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো এই অ্যাকাউন্টগুলো চিহ্নিত এবং অপসারণের জন্য আরও কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করার জন্য ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনলাইন তথ্য পরিমণ্ডলে মিডিয়া বিষয়ক জ্ঞান এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার দক্ষতার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। ইরানের ইন্টারনেট বন্ধ থাকা অব্যাহত থাকায়, অনলাইনে সত্যের জন্য যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরের অস্থিরতার বাস্তবতা অনুধাবনের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলবে। জনমত এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর এই ভুল তথ্যের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment