উগান্ডার প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে প্রেসিডেন্ট ইউয়েরি মুসেভেনি আরও একটি মেয়াদের জন্য প্রস্তুত, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ববি ওয়াইন ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন, এমন পরিস্থিতিতে উগান্ডার ব্যবসায়িক পরিবেশ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এই নির্বাচনের ফলাফল বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, ৭০% ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে মুসেভেনি ৭৫% ভোট পেয়েছেন, যেখানে ওয়াইন ২১% ভোট পেয়েছেন। বিতর্কিত ফলাফল এবং অস্থিরতার সম্ভাবনা বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করতে পারে, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস, কৃষি এবং পর্যটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে। বাজারের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ আসন্ন দিনগুলোতে উগান্ডার শিলিংয়ের অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
উগান্ডার অর্থনীতি ধীরে ধীরে বাড়ছে, বিশ্বব্যাংক ২০২১ সালের জন্য ২.৬% জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণ এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। তবে, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করতে পারে, অবকাঠামো উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য সম্পর্ককে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
১৯৮৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মুসেভেনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার সময়কালে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছেন এবং বাজার-ভিত্তিক সংস্কার বাস্তবায়ন করেছেন। তবে, সমালোচকরা ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাবকে টেকসই উন্নয়নের পথে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। ওয়াইন, একজন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ব্যক্তি, পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুর্নীতি মোকাবেলা, চাকরি সৃষ্টি এবং শাসনের উন্নতির জন্য প্রচারণা চালিয়েছেন।
আসন্ন সপ্তাহগুলো উগান্ডার ব্যবসায়িক পরিবেশের উপর নির্বাচনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। একটি মসৃণ পরিবর্তন এবং নির্বাচনী সততা নিয়ে উদ্বেগ নিরসনে প্রতিশ্রুতি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। তবে, অব্যাহত বিরোধ এবং সম্ভাব্য অস্থিরতা আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং উগান্ডার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে ব্যাহত করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment