ফিসফিসানিগুলো শুরু হয়েছিল খুব ধীরে, সিলিকন ভ্যালির উদ্ভাবনী ইঞ্জিনের গর্জনের নিচে চাপা গুঞ্জন হিসেবে। তারপর সেগুলো আরও জোরালো হয়ে ওঠে, একটি ঐকান্তিক বিশ্বাসের কোরাসে রূপান্তরিত হয়: আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স বা এজিআই (কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা) প্রায় এসেই গেছে। শীঘ্রই, যন্ত্র মানুষের মতো চিন্তা করবে, যুক্তি দেবে এবং সৃষ্টি করবে, সম্ভবত আমাদের ছাড়িয়েও যাবে। কিন্তু উইল ডগলাস হেভেনের নতুন গ্রাহক-এক্সক্লুসিভ ই-বুক অনুসারে, যা আশাবাদী ভবিষ্যৎবাদ হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা একটি অন্ধকার মোড় নিয়েছে, যা পুরো শিল্পকে হাইজ্যাক করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ষড়যন্ত্র তত্ত্বে রূপান্তরিত হয়েছে।
বহু বছর ধরে, এজিআই-এর প্রতিশ্রুতি বিশাল বিনিয়োগ জুগিয়েছে, শীর্ষ প্রতিভাদের আকৃষ্ট করেছে এবং খবরের শিরোনাম দখল করেছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা পরবর্তী বড় কিছু হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তাড়াহুড়ো করে এআই স্টার্টআপগুলিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢেলেছে। গবেষকরা, সম্ভাব্য সব কিছুর সীমা বাড়াতে আগ্রহী হয়ে, আরও বেশি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য তাড়া করেছেন। জনসাধারণ, এআই সাফল্যের গল্পে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ হওয়ায়, এজিআই-কে অবশ্যম্ভাবী হিসেবে মেনে নিতে শুরু করে। কিন্তু হেভেনের ই-বুক যুক্তি দেয় যে এজিআই-এর এই নিরলস সাধনা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যাhype এবং জল্পনা-কল্পনার একটি স্বয়ংক্রিয় চক্র তৈরি করেছে।
"কীভাবে এজিআই একটি গুরুত্বপূর্ণ ষড়যন্ত্র তত্ত্বে পরিণত হয়েছে" শীর্ষক ই-বুকটি, শুধুমাত্র গ্রাহকদের জন্য উপলব্ধ, এই ঘটনার উৎস নিয়ে আলোচনা করে এবং এআই গবেষণার প্রথম দিনগুলোতে এর শিকড় খুঁজে বের করে। এটি অনুসন্ধান করে যে কীভাবে এজিআই-এর ধারণা, যা একসময় একটি বৈধ বৈজ্ঞানিক আকাঙ্ক্ষা ছিল, সিলিকন ভ্যালির ক্ষমতাশালী খেলোয়াড়দের বর্ণনার সাথে জড়িত হয়ে যায়। বইটি বিস্তারিতভাবে জানায় যে কীভাবে মানুষের স্তরের বুদ্ধিমত্তা অর্জনের উপর নিরলস মনোযোগ এআই বিকাশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকে আড়াল করেছে, যেমন নির্ভরযোগ্য, নৈতিক এবং সমাজের জন্য উপকারী এআই সিস্টেম তৈরি করা।
এখানে উপস্থাপিত মূল যুক্তগুলোর মধ্যে একটি হল "এজিআই ষড়যন্ত্র" অগত্যা ইচ্ছাকৃত চক্রান্ত নয়, বরং কয়েকটি কারণের সংমিশ্রণে সৃষ্ট একটি সম্মিলিত বিভ্রম। পিছিয়ে থাকার ভয়, বিপুল সম্পদের লোভ এবং এআই-এর রূপান্তরকারী শক্তিতে প্রকৃত বিশ্বাস - সবকিছুই এই ঘটনায় অবদান রেখেছে। এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যেখানে ভিন্নমতাবলম্বী কণ্ঠস্বর প্রায়শই স্তব্ধ করে দেওয়া হয় এবং সংশয়বাদকে লুডাইট বা নিন্দুক আখ্যা দিয়ে মোকাবিলা করা হয়।
ই-বুকটি এজিআই-এর এই মোহগ্রস্থতার বাস্তব-বিশ্বের পরিণতিও পরীক্ষা করে। এটি এআই প্রকল্পগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে যেগুলো অতিরিক্ত hype-এর শিকার হয়েছে এবং প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে সম্পদ নষ্ট হয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয়েছে। এটি এআই-এর সম্ভাব্য ক্ষতিকারক ব্যবহারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে, যেমন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরি করা বা ভুল তথ্য ছড়ানো।
হেভেন ই-বুকে লিখেছেন, "সমস্যাটি এআই নিজে নয়।" "বরং আমরা যেভাবে এটি নিয়ে কথা বলছি, যেভাবে আমরা এতে বিনিয়োগ করছি এবং যেভাবে আমরা এটিকে আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন করতে দিচ্ছি।"
ই-বুকটি সহজ উত্তর বা সরল সমাধান দেয় না। পরিবর্তে, এটি পাঠকদের এআই-এর প্রতিশ্রুতি এবং বিপদ সম্পর্কে সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে এবং প্রযুক্তি শিল্পের কাছ থেকে আরও বেশি স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা দাবি করে। এটি এআই বিকাশের জন্য আরও সুষম এবং বাস্তবসম্মত পদ্ধতির পরামর্শ দেয়, যা সম্ভাব্য অসাধ্য লক্ষ্যের সাধনার চেয়ে সামাজিক উপকারকে অগ্রাধিকার দেবে।
এআই ল্যান্ডস্কেপ যখন ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে, তখন হেভেনের ই-বুক একটি সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে যে এআই-এর ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত নয়। সেই ভবিষ্যৎকে রূপ দেওয়া এবং এআই যেন সকলের জন্য একটি উন্নত বিশ্ব তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। হেভেন পূর্বে যেমন লিখেছেন, ২০২৫ সালের মহান এআই hype সংশোধন হয়তো আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে, এবং সামনের পথে চলতে হলে এজিআই ষড়যন্ত্র বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment