শনিবার দেশটির নির্বাচন কমিশন অনুসারে, উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইউয়েরি মুসেভেনি সপ্তম মেয়াদে জয়লাভ করেছেন। সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ৮১ বছর বয়সী মুসেভেনি ৭১.৬৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, যেখানে তার প্রধান প্রতিপক্ষ ৪৩ বছর বয়সী ববি ওয়াইন ২৪.৭২ শতাংশ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মতে, এই নির্বাচনটি এমন একটি প্রচারণামূলক সময়ের পরে অনুষ্ঠিত হয়েছে যা ব্যাপক দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি দ্বারা কলঙ্কিত ছিল, যার মধ্যে বিরোধী দলের সমাবেশে দমন-পীড়নও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বৃহস্পতিবার নির্বাচনের দিন দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
মুসেভেনির এই বিজয় তার শাসনকে চার দশক পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি ক্ষমতায় আছেন, অস্থিরতার বছরগুলোর পর উগান্ডায় তুলনামূলক স্থিতিশীলতা আনার জন্য প্রাথমিকভাবে সমর্থন অর্জন করেছিলেন। তার সমর্থকরা তাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কৃতিত্ব দেন। তবে সমালোচকরা তাকে স্বৈরাচারী এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনের অভিযোগ করেন।
ববি ওয়াইন, একজন পপ তারকা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা, তরুণ উগান্ডার নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, যারা পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক সুযোগের আকাঙ্ক্ষী। তিনি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন, যা নির্বাচন কমিশন অস্বীকার করেছে। ফলাফল ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াইন বলেন, "আমাদের কাছে ব্যালট বাক্স ভর্তি এবং অন্যান্য কারচুপির প্রমাণ রয়েছে।"
নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষা করে বলেছে যে এটি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা গণমাধ্যম এবং বিরোধী প্রার্থীদের উপর বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগের একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, "নির্বাচনকালে সহিংসতা ও ভয়ভীতির খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।"
নির্বাচনের ফলাফল সম্ভবত উগান্ডার সমাজকে আরও বিভক্ত করবে। ওয়াইন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ফলাফলের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাবেন। দেশের স্থিতিশীলতা এবং এর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য আগামী দিনগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment