ইরানে, সাম্প্রতিক ব্যাপক বিক্ষোভ কঠোর সরকারি দমন-পীড়নের শিকার হওয়ার পর একটি অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এসেছে, যেখানে একজন বিশিষ্ট কট্টরপন্থী ধর্মগুরু প্রকাশ্যে গ্রেপ্তারকৃত বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে কথা বলেছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন, যা সরকারের প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা নির্দেশ করে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস শুক্রবার জানিয়েছে যে আহমদ খাতামির এই বিবৃতি ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে থাকা কিছু কট্টরপন্থীর অবস্থানের প্রতিফলন।
ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে ২৮শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে দমন করা হয়েছে বলে মনে করা হয়, যার ফলে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। যদিও সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে সরকারের প্রতিক্রিয়ার মাত্রা আন্তর্জাতিক নিন্দা আকর্ষণ করেছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও নমনীয় সুর গ্রহণ করেছেন, শত শত আটক বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য ইরানের নেতাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই পরিবর্তন উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এবং সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প এর আগে মৃত্যুদণ্ড এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যাকে "লাল রেখা" হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন যা ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কারণ হতে পারে।
এই পরিস্থিতি অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে। সোশ্যাল মিডিয়া ডেটা বিশ্লেষণে এআই-এর ব্যবহার বিক্ষোভের অন্তর্নিহিত কারণ এবং গতিশীলতা, সেইসাথে সরকারের প্রতিক্রিয়ার কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ (NLP) অ্যালগরিদমগুলি অনলাইনে প্রকাশিত মূল বিষয় এবং অনুভূতিগুলি সনাক্ত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ঐতিহ্যবাহী জরিপ পদ্ধতির চেয়ে জনমতের আরও সূক্ষ্ম ধারণা প্রদান করে।
উপরন্তু, এআই-চালিত নজরদারি প্রযুক্তি সম্ভবত সরকারের অসন্তোষ নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে। মুখের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ পুলিশিং অ্যালগরিদমগুলি বিক্ষোভকারীদের সনাক্ত এবং ট্র্যাক করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা গোপনীয়তা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের জন্য এআই ব্যবহারের নৈতিক প্রভাব বিশ্বব্যাপী একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়, বিশেষ করে স্বৈরাচারী শাসনের দেশগুলিতে।
বিক্ষোভের সময় বাস্তবায়িত ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, তথ্যের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং মাঠের প্রতিবেদন যাচাই করা কঠিন করে তুলেছে। ব্ল্যাকআউট সত্ত্বেও, ভিডিও এবং ছবিগুলি ভেসে উঠতে পেরেছিল, যা কর্মীদের সম্পদশালীতা এবং ডিজিটাল যুগে তথ্য সম্পূর্ণরূপে দমন করার চ্যালেঞ্জগুলিকে তুলে ধরেছে। সেন্সরশিপ এড়াতে ব্যবহৃত পদ্ধতি, যেমন ভিপিএন এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপস, সরকার এবং তাদের মধ্যে চলমান বিড়াল-ইঁদুর খেলাকে প্রদর্শন করে যারা তাদের মুক্ত মত প্রকাশের অধিকার প্রয়োগ করতে চায়।
বর্তমান পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক অসন্তোষের সমাধান না হলে নতুন করে বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ ইরানের মানবাধিকার রেকর্ড এবং এর পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিক্রিয়ায় তাদের বিকল্পগুলি বিবেচনা করছে। ইরান স্থায়ী স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারবে কিনা, নাকি আরও অস্থিরতা অনিবার্য, তা নির্ধারণে আগামী সপ্তাহগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment