টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন, একজন রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী, শুক্রবার একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছেন। ঐ বিজ্ঞাপনে সিনেটর জন করনিনের ডিজিটালভাবে তৈরি দৃশ্য দেখানো হয়েছে। জন করনিন একজন রিপাবলিকান, যাকে প্যাক্সটন চ্যালেঞ্জ করছেন। সেখানে ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটের প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রতিনিধি জেসমিন ক্রকেটের সাথে করনিনকে নাচতে দেখা যায়। করনিন এবং ক্রকেটের মধ্যে রাজনৈতিক যোগসূত্র আছে এমন ধারণা তুলে ধরাই ছিল বিজ্ঞাপনটির উদ্দেশ্য। বিজ্ঞাপনটিতে টেক্সাসের একটি ডান্স হল এবং ইউএস ক্যাপিটলের মতো স্থানে এই জুটিকে নাচতে দেখা যায়। এই দৃশ্যগুলো এআই দিয়ে তৈরি করা। পাশাপাশি ক্রকেট কর্তৃক করনিনের প্রশংসা এবং করনিন কর্তৃক ক্রকেটের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্যের খবরের ভিডিও ক্লিপও যুক্ত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে এআই-এর ব্যবহার নির্বাচনে ভুল তথ্য এবং কারসাজির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই প্রযুক্তি বাস্তবসম্মত কিন্তু সম্পূর্ণরূপে জাল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা সত্য এবং কল্পনার মধ্যেকার সীমারেখা মুছে ফেলে এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। এই ঘটনাটি এআই সরঞ্জামগুলোর ক্রমবর্ধমান সহজলভ্যতা এবং রাজনৈতিক আলোচনার ওপর তাদের সম্ভাব্য প্রভাবকে তুলে ধরে।
এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে কম্পিউটার সিস্টেম দ্বারা মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রক্রিয়াগুলোর সিমুলেশনকে বোঝানো হয়েছে। জেনারেটিভ এআই, বিশেষভাবে, বিদ্যমান ডেটা থেকে শেখা প্যাটার্নের ওপর ভিত্তি করে নতুন কনটেন্ট, যেমন ছবি এবং ভিডিও তৈরি করতে পারে। করনিন-ক্রকেটের বিজ্ঞাপনটি এই সক্ষমতার উদাহরণ। এখানে এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে দুই রাজনীতিবিদের একসাথে নাচের একটি ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, যদিও বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান পরিশীলিততা এবং সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে নির্বাচনে এআই-উত্পাদিত কনটেন্টের সংখ্যা বাড়তে পারে। এটি ভোটারদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, কারণ তাদের পক্ষে খাঁটি এবং জাল তথ্যের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়বে। "ডিপফেকস" (deepfakes), যা দেখতে খুবই বাস্তব কিন্তু আসলে নকল ভিডিও, জনমতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে - এমন একটি উদ্বেগ বাড়ছে।
রাজনৈতিক প্রচারে এআই-এর ব্যবহার একেবারে নতুন নয়। এর আগে অ্যান্ড্রু এম কুওমো তার প্রচারণার ভিডিওতে এআই-উত্পাদিত দৃশ্য ব্যবহার করেছিলেন। তবে প্যাক্সটনের বিজ্ঞাপন এই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান পরিশীলিততা এবং সম্ভাব্য প্রভাবকে তুলে ধরে।
এআই-উত্পাদিত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত আইনি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো এখনও বিকশিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে এআই ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এমন কোনো নির্দিষ্ট ফেডারেল আইন বর্তমানে নেই, তবে মানহানি এবং মিথ্যা বিজ্ঞাপন বিরোধী বিদ্যমান আইন প্রযোজ্য হতে পারে। কিছু রাজ্য রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে এআই-উত্পাদিত কনটেন্ট প্রকাশের বাধ্যবাধকতা তৈরি করার জন্য আইন বিবেচনা করছে।
এই ঘটনা গণমাধ্যম সাক্ষরতা এবং ভুল তথ্য মোকাবেলায় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো এআই-উত্পাদিত কনটেন্ট চিহ্নিতকরণ এবং ভুল প্রমাণ করার জন্য কাজ করছে, তবে এআই-উত্পাদিত কনটেন্ট তৈরির গতি এবং ব্যাপকতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মে এআই-উত্পাদিত কনটেন্ট চিহ্নিত এবং লেবেল করার উপায় নিয়েও কাজ করছে।
কর্নিন এবং ক্রকেটের প্রচারণা দল এখনও বিজ্ঞাপনটি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি जारी করেনি। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নতুন আকার দিতে এআই-এর সম্ভাবনা এবং ডিজিটাল যুগে বর্ধিত সতর্কতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার প্রয়োজনীয়তার একটি কঠোর অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment