ডিপস্টেট নামক ইউক্রেনীয় সংস্থা, যারা যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করে, তাদের প্রকাশিত অক্টোবরের শেষের দিকের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বে একটি রুশ "ফ্রাঙ্কেনস্টাইন ট্যাঙ্ক" প্রায় দুই ডজন ড্রোন হামলা থেকে বেঁচে যায়, কিন্তু অবশেষে বিকল হয়ে যায়। সামরিক বিশ্লেষকরা এটিকে রুশ "ফ্রাঙ্কেনস্টাইন ট্যাঙ্ক" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস দ্বারা ঘটনাটি যাচাই করা হয়েছে, যা আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের উপর জোর দেয় এবং এই বিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে রুশ সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, ট্যাঙ্কটি প্রায় এলোমেলোভাবে ঝালাই করা ধাতব পাত দিয়ে মোড়ানো, যা সম্ভবত ড্রোন হামলা থেকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা। এইimprovised সুরক্ষা সত্ত্বেও, ট্যাঙ্কটি শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত ড্রোন হামলায় পরাস্ত হয়, যার ফলে ক্রুদের গোলাগুলির মধ্যে গাড়িটি ত্যাগ করতে হয়। এই ঘটনাটি যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকে তুলে ধরে, যেখানে অপেক্ষাকৃত সস্তা ড্রোনগুলি অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করতে পারে, সেইসাথে কর্মীদের বিপন্ন করতে পারে।
এই ঘটনাটি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ইউক্রেন ক্রমবর্ধমানভাবে রুশ সাঁজোয়া যান এবং সেনা অবস্থানের বিরুদ্ধেreconnaissance, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সরাসরি হামলার জন্য ড্রোনের উপর নির্ভর করছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের বিস্তার ঐতিহ্যবাহী সামরিক বাহিনীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার জন্য এই হুমকির মোকাবিলা করতে নতুন কৌশল এবং প্রযুক্তির প্রয়োজন। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী কর্তৃক ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের সাথে রুশ সামরিক বাহিনী কার্যকরভাবে খাপ খাইয়ে নিতে সংগ্রাম করছে।
একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হল খরচ এবং সহজলভ্যতার মধ্যে অসামঞ্জস্যতা। ট্যাঙ্ক বা অন্যান্য সাঁজোয়া যানের চেয়ে ড্রোন তৈরি এবং মোতায়েন করা উল্লেখযোগ্যভাবে সস্তা। এটি ইউক্রেনকে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায়, প্রচুর সংখ্যক ড্রোন সরবরাহ করতে, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করতে এবং রুশ বাহিনীর জন্য একটি স্থায়ী হুমকি তৈরি করতে সহায়তা করে। ড্রোন প্রযুক্তিতে এআই-এর ব্যবহার এই সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এআই-চালিত ড্রোনগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য সনাক্ত এবং ট্র্যাক করতে, জটিল পরিবেশে নেভিগেট করতে এবং এমনকি ঝাঁকে ঝাঁকে হামলা চালাতে পারে, যা তাদের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং মানুষের অপারেটরের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করে।
এই "ড্রোন যুগের" প্রভাব ইউক্রেনের உடனত সংকট ছাড়িয়েও বিস্তৃত। ড্রোন প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সহজলভ্যতা এবং পরিশীলিততা যুদ্ধের ধরন পরিবর্তন করছে, যা বৃহৎ, সুসজ্জিত সামরিক বাহিনীর ঐতিহ্যবাহী সুবিধাগুলিকে দুর্বল করে দিতে পারে। এই পরিবর্তনের ফলে আরও বিকেন্দ্রীকৃত এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হতে পারে, যেখানে ছোট, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত বাহিনী বৃহত্তর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, রুশ সামরিক বাহিনী ড্রোনের হুমকি কমাতে বিভিন্ন পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ড্রোন সংকেত জ্যাম করার জন্য ডিজাইন করা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, অ্যান্টি-ড্রোন বন্দুক এবং ট্যাঙ্কের উপর লাগানোimprovised সুরক্ষা। তবে, এই ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা সীমিত, যা ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার অব্যাহত সাফল্য থেকে প্রমাণিত।
ভবিষ্যতে, কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং মোতায়েন সম্ভবত সারা বিশ্বের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। এর মধ্যে কেবল শারীরিক প্রতিরক্ষাই নয়, এআই-চালিত সিস্টেমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ড্রোন সনাক্ত, ট্র্যাক এবং নিষ্ক্রিয় করতে পারে। ড্রোন যুগের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে, এবং এর ফলাফলের উপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার গভীর প্রভাব।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment