শুক্রবার উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশোধমূলক হামলায় বিলাল হাসান আল-জসিম নামের আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট এক নেতা নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই ব্যক্তি ১৩ ডিসেম্বরের ওই হামলার জন্য দায়ী ইসলামিক স্টেটের সদস্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যে হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন আমেরিকান বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মতে, আল-জসিম ছিলেন "একজন অভিজ্ঞ সন্ত্রাসী নেতা, যিনি হামলার পরিকল্পনা করতেন এবং তিনি সরাসরিভাবে" সার্জেন্ট এডগার ব্রায়ান টোরেস-টোভার, সার্জেন্ট উইলিয়াম নাথানিয়েল হাওয়ার্ড এবং বেসামরিক দোভাষী আয়াদ মনসুর সাকের ওপর হামলার সাথে জড়িত ছিলেন।
এই হামলাটি সিরিয়ায় মারাত্মক ওই হামলার পরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের তৃতীয় দফা। যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত এবং লক্ষ্যবস্তু বানাতে অত্যাধুনিক এআই-চালিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবহার করছে। এই এআই সিস্টেমগুলি উপগ্রহ চিত্র, যোগাযোগে আড়ি পাতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যকলাপসহ বিশাল পরিমাণ ডেটা দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা সনাতন পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।
সামরিক অভিযানে এআই-এর ব্যবহার বেশ কিছু নৈতিক ও সামাজিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একটি প্রধান উদ্বেগ হল অ্যালগরিদমিক পক্ষপাতিত্ব, যেখানে এআই সিস্টেমের প্রশিক্ষণ ডেটা বিদ্যমান কুসংস্কারগুলিকে প্রতিফলিত করে, যা ভুল বা বৈষম্যমূলক ফলাফলের দিকে পরিচালিত করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি এআই প্রাথমিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জনসংখ্যার ডেটার ওপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষিত হয়, তবে এটি অন্যান্য অঞ্চলে বা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে হুমকি শনাক্ত করতে কম কার্যকর হতে পারে। আরেকটি উদ্বেগ হল ত্রুটি এবং অপ্রত্যাশিত পরিণতির সম্ভাবনা। এমনকি সবচেয়ে উন্নত এআই সিস্টেমও নির্ভুল নয়, এবং লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে ভুল হলে বেসামরিক হতাহতের মতো মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর সামরিক অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য এআই-এর উন্নয়নে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রজেক্ট ম্যাভেন লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণের গতি এবং নির্ভুলতা উন্নত করতে ইমেজ বিশ্লেষণে এআইকে সংহত করার চেষ্টা করছে। এই অগ্রগতিগুলো বিতর্কিত, কারণ কিছু বিশেষজ্ঞ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, যা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে যে তারা কঠোর নিয়মকানুন মেনে চলে এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সিদ্ধান্তে সর্বদা মানুষের তদারকি বজায় রাখা হয়। তবে, এআই-এর ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যখন কোনো এআই সিস্টেম ভুল করে, তখন কে দায়ী তা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে এবং এই সিস্টেমগুলিকে চালিত করা জটিল অ্যালগরিদমগুলি তাদের নির্মাতাদের কাছেও অস্পষ্ট হতে পারে।
সিরিয়ার পরিস্থিতি এখনও অস্থির, এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রচেষ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্ভবত এআই-চালিত গোয়েন্দা তথ্য এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করা অব্যাহত রাখবে। যুদ্ধক্ষেত্রে এআই-এর নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে চলমান বিতর্ক সম্ভবত আরও তীব্র হবে, কারণ এই প্রযুক্তিগুলো আরও অত্যাধুনিক এবং ব্যাপক হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের উন্নয়ন সম্ভবত এআই সিস্টেমের নির্ভুলতা এবং নির্ভরযোগ্যতা উন্নত করার পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত পরিণতি রোধ এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার জন্য সুরক্ষাব্যবস্থা বিকাশের দিকে মনোনিবেশ করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment