ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা ডিসেম্বরে সরাসরি সামরিক সংঘাতের রূপ নেয়, যা আঞ্চলিক গতিশীলতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করে। ইয়েমেনে এই সংঘর্ষ হয়, যেখানে সৌদি সেনাবাহিনী ও তার মিত্ররা আমিরাত-সমর্থিত দলগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এই পদক্ষেপের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত সংঘাত থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়, যা দুটি দেশের মধ্যে গভীর বিভেদের ইঙ্গিত দেয়।
এই বিভাজন আঞ্চলিক সংঘাত এবং বৈদেশিক নীতি বিষয়ক ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশেষ করে সুদানের গৃহযুদ্ধে স্পষ্ট, যেখানে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একে অপরের বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করেছে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মার্ক লিঞ্চের মতে, এখন প্রধান প্রশ্ন হলো এই বিভেদ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে, নাকি এটি অঞ্চলের ক্ষমতার বৃহত্তর পুনর্বিন্যাসের দিকে ধাবিত হবে।
সৌদি-আমিরাতের জোট কয়েক দশক ধরে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে, যা সন্ত্রাস দমন থেকে শুরু করে জ্বালানি নীতি পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করেছে। উভয় দেশই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, যা মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশের একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট। তবে, ইয়েমেন ও সুদানে ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থের কারণে অন্তর্নিহিত উত্তেজনা প্রকাশ পেয়েছে।
ইয়েমেনের সংঘাত, যেখানে ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তা বিরোধের একটি প্রধান কারণ। যদিও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়ই প্রাথমিকভাবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিল, তবে তাদের কৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ভিন্ন হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মনোযোগ দক্ষিণ ইয়েমেনে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার দিকে সরে যায়, যেখানে সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামরিক অভিযানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে।
সুদানের পরিস্থিতি উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সৌদি আরব সুদানের সামরিক বাহিনীকে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সমর্থন করতে আগ্রহী, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত দেশটির অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে সমর্থন করার অভিযোগে অভিযুক্ত।
সৌদি-আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিভেদের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের জোটগুলোকে নতুন রূপ দিতে পারে, আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকেও প্রভাবিত করতে পারে। অভ্যন্তরীণ বিভেদের কারণে এমনিতেই চাপের মধ্যে থাকা জিসিসি'র ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। বিশ্লেষকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে বোঝা যায় বর্তমান উত্তেজনা একটি সাময়িক মতবিরোধ, নাকি আঞ্চলিক ব্যবস্থায় একটি মৌলিক পরিবর্তন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment