নেচারের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, নাসা আর মঙ্গল গ্রহের শিলা নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে না, এই সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সুযোগের ক্ষতি করবে। পরিকল্পনার এই পরিবর্তনটি বাজেট সংকট এবং সংশোধিত ঝুঁকি মূল্যায়নের কারণে হয়েছে, যা মঙ্গলের ভূতত্ত্বের গভীর বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য জৈব সংকেত অনুসন্ধানের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করবে।
মূল মার্স স্যাম্পল রিটার্ন (MSR) মিশনের লক্ষ্য ছিল মঙ্গলের শিলা ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করা, সেগুলোকে পৃষ্ঠে জমা করা এবং পরবর্তীতে পৃথিবীর পরীক্ষাগারে বিস্তারিত অধ্যয়নের জন্য পুনরুদ্ধার করা। বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন যে এই নমুনাগুলো গ্রহটির অতীতের বাসযোগ্যতা, ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং সম্ভবত অতীত বা বর্তমান জীবনের প্রমাণ সম্পর্কে ধারণা দেবে। নমুনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছিল কারণ কিছু বিশ্লেষণ বর্তমানে মঙ্গলে থাকা রোবোটিক যন্ত্রের মাধ্যমে করা সম্ভব নয়।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির একজন শীর্ষস্থানীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডঃ এমিলি কার্টার নেচারে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "এই নমুনাগুলো ফিরিয়ে আনতে না পারা গ্রহ বিজ্ঞান এর জন্য একটি বড় ধাক্কা।" "আমরা অত্যাধুনিক বিশ্লেষণমূলক কৌশল ব্যবহারের সুযোগ হারাচ্ছি যা মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে আমাদের ধারণায় বিপ্লব ঘটাতে পারত।"
অন্য একটি খবরে, নেচারে প্রকাশিত গবেষণা কুকুরের ফ্লপি কানের জেনেটিক ভিত্তি সম্পর্কে আলোকপাত করেছে। বিজ্ঞানীরা অনেক প্রজাতির মধ্যে দেখা যাওয়া লম্বা এবং ঝুলন্ত কানের বিকাশের জন্য দায়ী নির্দিষ্ট জিন সনাক্ত করেছেন। এই গবেষণাটি গৃহপালিতকরণ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জন্য নির্বাচিত প্রজননের ফলে কুকুরের মধ্যে যে জিনগত পরিবর্তনগুলো ঘটেছে সে সম্পর্কে ধারণা দেয়।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ অ্যালিস চেনের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় বিভিন্ন আকারের কানের অসংখ্য কুকুরের জাতের জিনোম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দলটি আবিষ্কার করেছে যে তরুণাস্থি বিকাশ এবং কানের কাঠামোর সাথে সম্পর্কিত জিনের পরিবর্তনগুলো ফ্লপি কানের উপস্থিতির সাথে দৃঢ়ভাবে জড়িত। ডঃ চেন ব্যাখ্যা করেছেন, "আমাদের অনুসন্ধান থেকে জানা যায় যে গৃহপালিতকরণের সময় অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের জন্য নির্বাচন করার কারণে ফ্লপি কানের নির্বাচন একটি অপ্রত্যাশিত পরিণতি হতে পারে।"
এই গবেষণাটি গৃহপালিত প্রাণীদের বিবর্তন এবং বৈচিত্র্য বুঝতে জিনোম বিশ্লেষণের ক্ষমতাকে তুলে ধরে। এটি কুকুর এবং অন্যান্য প্রজাতির অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যের জিনগত ভিত্তি সম্পর্কে আরও অধ্যয়নের জন্য একটি ভিত্তি প্রদান করে। এই ফলাফলগুলো প্রাকৃতিক জগতে আমরা যে বৈশিষ্ট্যগুলো দেখি, সেগুলোকে আকার দিতে জিন এবং পরিবেশের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment