বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, সরকারের দমন-পীড়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে এক সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে। ইউরেশিয়া গ্রুপের আধুনিক ইরান বিষয়ক ইতিহাসবিদ এবং সিনিয়র বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু-এর মতে, ইরানের সরকারের বর্তমান গতিপথ টেকসই নয়, যা অর্থনৈতিক পতন এবং ভিন্নমত দমনে ক্রমবর্ধমান শক্তির ব্যবহারের দ্বারা চিহ্নিত।
ব্রু সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলেছেন যে, উল্লেখযোগ্যভাবে পথ পরিবর্তন না করলে, এই শাসনের পতন ধীর কিন্তু অবশ্যম্ভাবী। ২০২৬ সালের জানুয়ারীর শুরু থেকে চলমান বিক্ষোভকারীরা সরকারের অর্থনৈতিক নীতি এবং সামাজিক বিধিনিষেধের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সরকারের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক নিন্দার শিকার হয়েছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলি অসংখ্য গ্রেপ্তার ও হতাহতের খবর জানিয়েছে।
সরকারের পতনের ঘটনা ঘটলে রেজা পাহলভির সম্ভাব্য নেতা হিসেবে আবির্ভাবের কারণে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। ইরানের প্রাক্তন শাহের নির্বাসিত পুত্র পাহলভি প্রকাশ্যে একটি নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণে তাঁর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা ইরানি জনগণের কিছু অংশের সমর্থন লাভ করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করার আগ্রহ দেখিয়েছে, যা এই অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখনও অস্পষ্ট, তবে শুধুমাত্র এই হুমকিই ইরান সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
ঐতিহাসিকভাবে, স্বৈরাচারী শাসকরা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য কখনও কখনও সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব এই পথ বেছে নেবে কিনা, তা দেখার বিষয়। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আগামী মাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment