মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে পশ্চিমা মিত্রদের অর্থনৈতিকভাবে শাস্তি দেওয়ার কথিত হুমকি নজিরবিহীন, এমনটাই মনে করেন অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল ইসলাম। অর্থনৈতিক যুদ্ধের এক রূপ হিসেবে বর্ণিত এই কথিত জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ লক্ষ্যভুক্ত দেশগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ইসলাম জানান, সামান্য পূর্বাভাস দিয়ে দেওয়া এই হুমকি, যা সম্ভাব্যভাবে ন্যাটো এবং পশ্চিমা জোটকে ভেঙে ফেলতে পারে, ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক জারি করা পূর্ববর্তী অর্থনৈতিক হুমকিকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে একই সাথে পরাবাস্তব এবং বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা দীর্ঘস্থায়ী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে অস্থিতিশীল করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
একটি দেশ কর্তৃক মিত্র রাষ্ট্রের ভূখণ্ড অধিগ্রহণের ধারণা অত্যন্ত অসম্ভব বলে বিবেচিত হয়। ইসলাম উল্লেখ করেন, মার্কিন সরকার, কংগ্রেস এবং প্রেসিডেন্টের নিজস্ব প্রশাসনের মধ্যে এই ধরনের পদক্ষেপের সমর্থনে কী পরিমাণ সমর্থন রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার ডেনমার্কে গ্রিনল্যান্ডের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে, যা এই ইস্যুটির সংবেদনশীলতাকে তুলে ধরে। এই ঘটনাটি গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব এবং সম্পদ সম্ভাবনা, সেইসাথে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে গ্রিনল্যান্ডে কৌশলগত আগ্রহ বজায় রেখেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে, ট্রুম্যান প্রশাসন ডেনমার্কের কাছ থেকে দ্বীপটি কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছিল। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের মধ্যে একটি স্ব-শাসিত অঞ্চল, ডেনমার্ক এর বৈদেশিক বিষয় ও প্রতিরক্ষা পরিচালনা করে।
প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়াগুলোর বর্তমান অবস্থা এখনও অনিশ্চিত। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকর্তারা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাদের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করার সাথে সাথে আরও অগ্রগতি প্রত্যাশিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment