জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা রিং নীহারিকার মধ্যে লুকানো একটি বিশাল লোহার কাঠামো আবিষ্কার করেছেন। রিং নীহারিকা তার স্বতন্ত্র আকৃতির জন্য সুপরিচিত একটি মহাজাগতিক বস্তু। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকরা ২০২৬ সালের ১৮ই জানুয়ারি এই আবিষ্কারের ঘোষণা দেন। এতে প্লুটোর কক্ষপথের চেয়ে কয়েকশ গুণ বড় একটি লোহার দণ্ডের সন্ধান পাওয়া যায়।
অনুমান করা হয় লোহার এই স্তূপটি প্রায় মঙ্গল গ্রহের আকারের। নতুন একটি যন্ত্রের মাধ্যমে এই আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অভূতপূর্ব বিশদভাবে নীহারিকার মানচিত্র তৈরি করতে সাহায্য করেছে। উন্নত স্পেকট্রাল বিশ্লেষণ কৌশল ব্যবহার করে এই যন্ত্রটি উচ্চ মাত্রায় আয়নিত লোহার অনন্য স্পেকট্রাল স্বাক্ষর সনাক্ত করতে গবেষকদের সক্ষম করে।
এই প্রকল্পের প্রধান গবেষক ডঃ এমিলি কার্টার বলেন, "এটি সত্যিই একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার। এই লোহার কাঠামোর বিশাল আকার এবং গঠন একটি গ্রহীয় নীহারিকাতে আগে যা দেখেছি তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।"
লোহার দণ্ডের উৎপত্তিস্থল এখনও একটি রহস্য। একটি প্রধান তত্ত্ব অনুযায়ী, এটি এমন একটি গ্রহের অবশিষ্টাংশ হতে পারে যা রিং নীহারিকার কেন্দ্রীয় নক্ষত্রটি লাল দানবে এবং পরবর্তীতে একটি সাদা বামনে পরিণত হওয়ার সময় বাষ্পীভূত হয়ে গিয়েছিল। মৃতপ্রায় নক্ষত্রের তীব্র তাপ এবং বিকিরণ গ্রহের বাইরের স্তরগুলোকে সরিয়ে দিতে পারে, যার ফলে পিছনে একটি লোহার কোর অবশিষ্ট থাকে।
রিং নীহারিকা, যা মেসিয়ার ৫৭ নামেও পরিচিত, লীরা নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত একটি গ্রহীয় নীহারিকা। এটি গঠিত হয় যখন একটি নক্ষত্র তার জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে গ্যাস এবং ধূলিকণার বাইরের স্তরগুলো মহাকাশে নিক্ষেপ করে। এই নির্গত পদার্থগুলো তখন মৃতপ্রায় নক্ষত্রের উত্তপ্ত কোর দ্বারা আলোকিত হয়, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিলক্ষিত সুন্দর এবং জটিল নকশা তৈরি করে।
এই আবিষ্কার গ্রহীয় নীহারিকা গঠন এবং মৃতপ্রায় নক্ষত্রের চারপাশে গ্রহীয় সিস্টেমের ভাগ্য সম্পর্কে আমাদের বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এটি ইঙ্গিত করে যে নীহারিকার গঠন এবং গঠনে গ্রহগুলো আগে যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।
আবিষ্কারে ব্যবহৃত নতুন যন্ত্রটিতে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণের জন্য এআই-চালিত অ্যালগরিদম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই অ্যালগরিদমগুলোকে স্পেকট্রাল তথ্যের বিশাল ডেটাসেটের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, যা তাদের সূক্ষ্ম প্যাটার্ন এবং অসঙ্গতিগুলো সনাক্ত করতে সক্ষম করে যা মানুষের পক্ষে সনাক্ত করা কঠিন বা অসম্ভব। এটি জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে তুলে ধরে, যা বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কার করতে এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের সীমানা প্রসারিত করতে সক্ষম করে।
গবেষকরা লোহার কাঠামো সম্পর্কে আরও ডেটা সংগ্রহ করার জন্য বিভিন্ন টেলিস্কোপ এবং যন্ত্র ব্যবহার করে রিং নীহারিকার আরও পর্যবেক্ষণ করার পরিকল্পনা করছেন। তারা এর সঠিক গঠন, ঘনত্ব এবং তাপমাত্রা নির্ধারণ করতে চান, যা এর উৎপত্তি এবং বিবর্তন সম্পর্কে আরও সূত্র সরবরাহ করতে পারে। দলটি ডেটা বিশ্লেষণ করতে এবং সম্ভাব্যভাবে নীহারিকার মধ্যে লুকানো অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলো উন্মোচন করতে আরও অত্যাধুনিক এআই মডেল তৈরি করতে চায়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment