২০২৫ সালের অক্টোবরে আরভি ফাল্কোর (টু)-এ ২৭ দিনের একটি গবেষণা অভিযানে বিজ্ঞানীরা আর্জেন্টিনার উপকূলের কাছে মালভিনাস স্রোত অনুসন্ধান করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বিষয়ক ডেটা সংগ্রহের জন্য ভাসমান বয়া স্থাপন করেন। বুয়েনোস Aires, আর্জেন্টিনার সমুদ্র এবং বায়ুমণ্ডল গবেষণা কেন্দ্রের (CIMA) পিএইচডি প্রার্থী মেলিনা এম. মার্টিনেজ এই বয়াগুলো প্রস্তুত এবং স্থাপনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মার্টিনেজের প্রধান দায়িত্ব ছিল ভাসমান বয়াগুলো একত্রিত এবং স্থাপন করা, যা সমুদ্র স্রোত বোঝার জন্য অপরিহার্য সরঞ্জাম। মার্টিনেজ ব্যাখ্যা করেন, "বয়াগুলো আমাদের সমুদ্রে আসলে কী ঘটছে তা দেখতে দেয়।" প্রতিটি বয়াতে একটি ব্যাটারি প্যাক এবং জিপিএস ইউনিট থাকে যা পলিস্টাইরিন ফোম দিয়ে সুরক্ষিত একটি টিউবের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। নীচে সংযুক্ত একটি ড্রোগ প্রতিরোধের জোগান দেয়, যা নিশ্চিত করে যে বয়াটি প্রধান সমুদ্র স্রোতের সাথে ভেসে যায়। মার্টিনেজ উল্লেখ করেন, "ড্রোগ ছাড়া, পরিমাপ বিশৃঙ্খল হবে।" বয়াগুলোর উপাদানগুলোর ভঙ্গুরতার কারণে জাহাজে বসেই এগুলো একত্রিত করা হয়েছিল। মার্টিনেজ দৃশ্যমানতা বাড়ানোর জন্য সেগুলোকে হলুদ রঙ করেন এবং স্থাপনের আগে জিপিএস সংযোগ এবং ব্যাটারি সহ সমস্ত অংশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন।
মালভিনাস স্রোত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র স্রোত যা আর্জেন্টিনার পাশ দিয়ে বয়ে যায়, যা আঞ্চলিক জলবায়ু এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল স্রোতের আচরণ সম্পর্কে ব্যাপক ডেটা সংগ্রহ করা, যা বিশ্ব সমুদ্র ব্যবস্থায় এর ভূমিকা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। গবেষণা দলে জীববিজ্ঞানী, ভূতত্ত্ববিদ এবং ভৌত সমুদ্রবিজ্ঞানীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা সমুদ্র বিষয়ক গবেষণার একটি বহু-বিভাগীয় পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে।
এই বয়াগুলো থেকে সংগৃহীত ডেটা সমুদ্র মডেলগুলো যাচাই এবং উন্নত করার জন্য অমূল্য, যার মধ্যে অনেকগুলো এখন ভবিষ্যতের সমুদ্রের অবস্থাPredict করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অন্তর্ভুক্ত করে। AI অ্যালগরিদম বয়া এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ করে এমন প্যাটার্ন এবং প্রবণতা চিহ্নিত করে যা মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব। এই AI-চালিত মডেলগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে আবহাওয়া পূর্বাভাস, জলবায়ু পরিবর্তনPrediction এবং জাহাজ চলাচলের পথ অপ্টিমাইজ করার মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
সমুদ্র বিষয়ক গবেষণায় AI-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক প্রজাতি সনাক্তকরণ এবং ট্র্যাক করা, ক্ষতিকারক শৈবাল Bloom-এরPrediction এবং подводный শব্দ দূষণ সনাক্তকরণের জন্য মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার। সমাজের জন্য এর প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই প্রযুক্তিগুলো আমাদের সমুদ্রকে আরও ভালোভাবে পরিচালনা ও রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাদের স্বাস্থ্য এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
গবেষণা দল বর্তমানে অভিযানকালে সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করছে। ফলাফলগুলো পিয়ার-পর্যালোচিত বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হবে এবং বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের সাথে শেয়ার করা হবে। মালভিনাস স্রোত এবং দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের উপর এর প্রভাব আরও গভীরভাবে তদন্ত করার জন্য ভবিষ্যতের গবেষণা অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বার্নার্ডা কর্নেজো পিন্টো মার্টিনেজের কাজের ছবি দিয়েছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment