গাজা পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নবগঠিত বোর্ড অফ পিস বর্তমানে বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে এর পরিধি বাড়ানোর কারণে সন্দেহের সম্মুখীন হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, ২০২৬ সালের ১৯শে জানুয়ারী করা এই ঘোষণাটি অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
বোর্ড অফ পিস মূলত বহু বছরের সংঘাত ও অস্থিরতার পর গাজা পুনর্গঠনের একটি প্রক্রিয়া হিসাবে পরিকল্পিত হয়েছিল। তবে, ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তীতে এই উদ্যোগটিকে একটি বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন সংস্থা হিসাবে পুনঃস্থাপন করেছে, যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বিরোধগুলির একটি বৃহত্তর পরিসরকে মোকাবিলা করা।
আল জাজিরার সংবাদদাতা রুবি জামান সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছেন, "বোর্ড অফ পিসের জন্য নির্ধারিত উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য এবং মাঠের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে একটি বড় সংযোগ বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।" "অনেকেই সন্দেহ করছেন যে জটিল বৈশ্বিক সংঘাতগুলি কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য বোর্ডের প্রয়োজনীয় সম্পদ, দক্ষতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে কিনা।"
এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত এবং প্রধান বিশ্ব শক্তিগুলির মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, যেখানে স্থায়ী সমাধান অর্জনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের চেষ্টা করছে, কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজন এবং দলগুলোর মধ্যে আস্থার অভাবের কারণে অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে।
জাতিসংঘ, বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থা এবং পৃথক দেশ ঐতিহাসিকভাবে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রচেষ্টাগুলোর কার্যকারিতা ভিন্ন হয়েছে, কিছু হস্তক্ষেপ সফল প্রমাণিত হয়েছে আবার কিছু উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছে। বোর্ড অফ পিসের প্রতিষ্ঠা বিদ্যমান আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়াগুলোর সাথে এর সম্পর্ক এবং তাদের প্রচেষ্টাকে পরিপূরক বা নকল করার সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে।
ট্রাম্প প্রশাসন এখনও বোর্ড অফ পিসের কাঠামো, তহবিল এবং কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেয়নি। এই অস্পষ্টতা পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আরও সন্দেহ সৃষ্টি করেছে, যারা উদ্যোগটির কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বোর্ড অফ পিস এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা এবং বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে একটি বিশ্বাসযোগ্য শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য আগামী মাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment