সিডনির পূর্বে বন্ধুদের সাথে সাঁতার কাটার সময় রবিবার বিকেলে একটি হাঙর এক বালকের পায়ে কামড়ানোর মাধ্যমে এই ঘটনাগুলোর শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ছেলেটির বয়স ১২ বা ১৩ বছর বলে মনে করা হচ্ছে এবং সে গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। সোমবার, ম্যানলি বিচে ২৭ বছর বয়সী এক সার্ফারের পায়ে হাঙর কামড়ানোর ফলে তার জীবন পরিবর্তনকারী আঘাত লেগেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অন্যান্য সৈকত ব্যবহারকারীরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছিল। সোমবার আরেকটি পৃথক ঘটনায়, ১১ বছর বয়সী এক বালক কয়েক মাইল দূরে তার সার্ফবোর্ডে হাঙরের কামড় বসানো সত্ত্বেও আঘাত থেকে রক্ষা পায়। চতুর্থ ঘটনাটি মঙ্গলবার সকালে সিডনি থেকে প্রায় ২০০ মাইল উত্তরে পয়েন্ট প্লমার সমুদ্র সৈকতের কাছে ঘটে, যেখানে একটি হাঙর এক সার্ফারকে তার বোর্ড থেকে ফেলে দেয় এবং সামান্য আঘাতের কারণে তাকে অল্প সময়ের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
হাঙরের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় হাঙর দেখা গেলে বা আক্রমণের ঘটনা ঘটলে সৈকত বন্ধ করে দেওয়া একটি সাধারণ পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য হল আরও ঘটনার ঝুঁকি কমানো। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে উষ্ণ জলের তাপমাত্রা, শিকারের স্থানান্তরের ধরনে পরিবর্তন এবং পানিতে মানুষের আনাগোনা বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন কারণ হাঙরের তৎপরতা বাড়াতে অবদান রাখতে পারে।
হাঙরের আক্রমণ তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের ঘটনার ইতিহাস রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে বেশিরভাগ আক্রমণই প্রাণঘাতী নয়। তবে, সাম্প্রতিককালে একের পর এক আক্রমণের ঘটনা জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং হাঙর প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে হাঙর জাল এবং ড্রামলাইনের মতো ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি থেকে শুরু করে সোনার ডিটেকশন সিস্টেম এবং ব্যক্তিগত হাঙর প্রতিরোধক ডিভাইসের মতো নতুন প্রযুক্তি।
কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত সৈকত বন্ধ থাকবে। লাইফগার্ড এবং সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞরা হাঙরের গতিবিধির ওপর নজর রাখছেন। জনসাধারণকে সৈকত বন্ধের নিয়ম মেনে চলতে এবং পানিতে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment