প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের কাছে একটি টেক্সট মেসেজে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের তার আগ্রহের একটি কারণ হলো নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া। রবিবার পাঠানো এই মেসেজটি স্টোরের অফিসের একজন কর্মকর্তা সোমবার নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে পিবিএস এই খবরটি জানায়।
টেক্সটে ট্রাম্প বলেন, "যেহেতু আপনাদের দেশ ৮টি যুদ্ধ থামানোর পরেও আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই এখন থেকে আমি শুধু শান্তির কথা ভাবার বাধ্যবাধকতা অনুভব করি না। যদিও শান্তি সবসময়ই প্রধান থাকবে, তবে এখন আমি আমেরিকার জন্য ভালো ও উপযুক্ত কী, তা নিয়ে ভাবতে পারি।" ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের উপর ডেনমার্কের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে আরও বলেন, "এখানে কোনো লিখিত দলিল নেই" এবং যোগ করেন, "গ্রিনল্যান্ডের উপর আমাদের সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়। ধন্যবাদ!"
এই মেসেজটি গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে এবং দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ চাওয়ার পেছনে ট্রাম্পের যুক্তির মধ্যে আরও অস্পষ্টতা তৈরি করেছে। গ্রিনল্যান্ড তিন শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ডেনমার্কের অধীনে রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয়। মার্কিন সরকার ১৯৪৬ সালে দ্বীপটি কেনার কথা বিবেচনা করেছিল। গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে আগ্রহের বিষয়, বিশেষ করে ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকে। গ্রিনল্যান্ডে থুলে এয়ার বেস নামে একটি মার্কিন বিমান বাহিনী ঘাঁটি রয়েছে।
ড্যানিশ সরকার ধারাবাহিকভাবে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্ব নেতারা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, কোনো সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। ড্যানিশ সরকার টেক্সট মেসেজটি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment